বুধবার (২৮ আগস্ট) বিকালে কৃষ্ণার স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী বাদী হয়ে এ মামলা (নম্বর ৩৭) করেন।
হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসার দীপংকর চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। বাসের মালিক, চালক মোরশেদ ও চালকের সহকারীকে আসামি করা হয়েছে।’ বাসচালকের নাম পাওয়া গেলেও অন্য আসামিদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
বাংলামোটর এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায় ট্রাস্ট পরিবহনের একটি মিনিবাস। এতে চাপা পড়েন কৃষ্ণা। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও তাকে তার পা হারানোর বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
বুধবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কৃষ্ণার বেডের পাশে ছেলে ও স্বামীসহ স্বজনরা রয়েছেন।
স্বামী রাধেশ্যাম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অপারেশনের পর জ্ঞান ছিল না। মধ্যরাতে জ্ঞান ফিরেছে। এখন ডাক দিলে সাড়া দেয়, কথাও বলে। তবে পায়ের কথা জানতে চায় মাঝে মাঝে। সে এখনও জানে না তার পা নেই।’
তিনি জানান, সকালে কৃষ্ণার এমআরআই করানো হয়েছে আগারগাঁওয়ের নিওরো সায়েন্স হাসপাতালে। মাথায় কোনও আঘাত নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাসটিকে আটক করেছি। তবে চালক পলাতক। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’
বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কৃষ্ণার চিকিৎসার বিষয়ে আমরা খোঁজ রাখছি। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসকরাও তাকে দেখছেন। তার অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’
ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েলফেয়ারের। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এই পরিবহনের বাস চলে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসটি আমাদের ট্রাস্টের। দুর্ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। আমাদের কাছে চালকের বায়োডাটা রয়েছে।’ পুলিশকে তারা সহায়তা করছেন বলে জানান তিনি।