ডাকসু নির্বাচনের সময় ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অনেক প্রার্থী। নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলেও কথা দিয়েছিলেন তারা।
সৈকতের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সমস্যার কোনও সমাধানের চেষ্টাও করছে না। তাই তিনি এখন এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বৈধ সিটে থাকবেন না।
এ বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মধ্যে গণরুম একটি বড় সমস্যা। ডাকসুর নির্বাচনে সবগুলো প্যানেলেরই ইশতেহারের বড় জায়গা জুড়ে গণরুম সমস্যা সমাধান নিয়ে কথা ছিল। আমি নিজেও গণরুম সমস্যা সমাধানের কথা বলে ভোট চেয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের এতদিন পরেও এই সমস্যার কোনও সমাধানের পথ তৈরি করতে পারিনি। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীই মেধাবী। সুযোগ দিলে তারা তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে। গণরুমে কেন নষ্ট হবে আমাদের সোনার ছেলেদের মেধা? আর আমি মনে করি, গণরুমই তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ায়।’
শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু ছাত্রদের একজন প্রতিনিধি হয়েও এতোদিনে এই সমস্যার কোনও সমাধান তৈরি করতে পারিনি, তাই আমি লজ্জিত এবং ক্ষমা প্রার্থী। একই সঙ্গে আমি আজ থেকে গণরুমে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার নিজের বৈধ সিটে প্রতিদিন একজন করে গণরুম থাকা ছাত্র ঘুমাবে। যতোদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সমস্যার দৃশ্যমান কোনও সমাধান না করছে, ততোদিন আমি গণরুমে থাকবো। একই সঙ্গে গণরুমে থাকাটা আমার প্রতিবাদের একটি ভাষা। প্রয়োজনে একাই লড়াই করে যাবো।’
এ বিষয়ে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ডাকসুর নৈতিক অবস্থান থেকে যা করা উচিত, তিনি (সৈকত) তা করেছেন। আমি আগেও বলেছি যে, ছাত্রলীগের বড় একটি অংশের অসহযোগিতার কারণেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারছি না।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের অন্যায়-অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে প্রশাসনের সিট বণ্টন করার কথা সেখানে ছাত্রলীগকে দিয়ে এ কাজ করানো হচ্ছে। আমি ডাকসুর সদস্য তানভীরের সাথে সম্পূর্ণ একমত।’
উল্লেখ্য, গণরুম হলো চার জন থাকার উপযোগী একটি কক্ষ যেখানে প্রথম বর্ষের ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী থাকেন।