ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বিপরীতে তাদের প্রতি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের অসৌজন্যমূলক আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে কাউন্সিলরদের উত্তেজনা প্রশমিত করতে মেয়রের ভূমিকাকে সাধুবাদও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব মন্তব্য করেছে বিআইপি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিআইপি মনে করে কাউন্সিলরদের এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত এবং জবাবদিহিমূলক স্থানীয় নগর সরকারের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে কাউন্সিলরদের উত্তেজনা প্রশমিত করতে মেয়রের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে বিআইপি।
ডিএসসিসির বাজেট অনুষ্ঠানের দিন বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক শাহেদ শফিক মেয়রের কাছে জানতে চান, ‘কাউন্সিলরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর আগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশকনিধন কর্মীদেরকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নগরবাসীর অভিযোগ, এ দায়িত্ব কাউন্সিলররা ঠিকমত পালন করেন না। তাহলে দায়িত্ব কি শুধু নগর পিতার? না কি কাউন্সিলরদেরও আছে?’
এমন প্রশ্নের উত্তরে মেয়র জবাব দেওয়ার আগেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। এসময় উপস্থিত কাউন্সিলরদের কয়েকজন প্রশ্নকারী প্রতিবেদকের দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। তখন অন্য সাংবাদিকরা বাধা দিলে সব সাংবাদিককে উপস্থিত কাউন্সিলররা চোখ রাঙানি দিতে থাকেন। এসময় মিলনায়তনে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কাউন্সিলরদের ওপর মেয়র খোকন চরম ক্ষুব্ধ হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের বাজেট বরাদ্দ ও প্রকল্প প্রণয়নে এলাকাভিত্তিক ও ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নের তারতম্য ও বৈষম্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে সে বিষয়েও দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নগর উন্নয়ন ও সেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেবা খাতের সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং তাদের নিরলস শ্রম ও আন্তরিকভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয় উন্নয়ন ও সেবা খাত সংশ্লিষ্ট খবর জনগণ জানতে পারেন এবং নগর সাংবাদিকরা সরকারের বিভিন্ন সেবা খাতে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে অবদান রাখেন। ফলশ্রুতিতে নগর সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ না ভেবে স্থানীয় কাউন্সিলর ও সিটি করপোশন তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামতকে গুরুত্ব দিলে স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক সেবা দিয়ে জনগনের আস্থা অর্জন সম্ভব বলে বিআইপি মনে করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিআইপি বিশ্বাস করে সিটি করপোরেশন কর্তৃক বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট প্রণয়নের পূর্বে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে এলাকার উন্নয়ন ও সেবা সংশ্লিষ্ট প্রকৃত প্রয়োজন ও চাহিদাগুলো নিরূপণ করে সিটি করপোরেশনের কাছে তুলে ধরা উচিত। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের কাছে এলাকাভিত্তিক অভ্যন্তরীণ রাস্তা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিক সেবা সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে থাকা প্রয়োজন যার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন প্রকল্প গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ করতে পারে। নগরের টেকসই ও সুষ্ঠু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে বাজেট বরাদ্দেও ওয়ার্ডভিত্তিক ম্যাপিং করা প্রয়োজন।