স্থানীয়রা আরও জানান, হাসপাতাল যারা পরিচালনা করেন তারা খুব ক্ষমতাবান লোক। আর তাই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও বহাল তবিয়তে আছে সবকিছু। অভিযোগ রয়েছে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালটিতে প্রায়ই রোগী মারা যায়, গরীব মানুষদের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বুঝিয়ে নিয়ে আসা হলেও তারা কোনও চিকিৎসা পান না। হন ডাকাতি শিকার।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সবকিছু ঠিক আছে, ডিজিহেলথ (স্বাস্থ্য অধিদফতর) আমাদের অনুমতি দিয়েছে। কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।
গত ২১ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক গুরুতর রোগীর অস্ত্রোপচারের নামে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, শরীরে কোনও অস্ত্রোপচার না করেই রোগীকে ফেলে রাখা হয়। রোগী মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও বেশি টাকা দাবি করে, কিন্তু মৃতদেহ তারা ফেরত দিতে চাচ্ছিল না। পরে বিভিন্নজনের মধ্যস্থতায় কিছু টাকা দিয়ে মৃতদেহ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পান্থপথের সিগনালের একটু আগে হাতের বাম দিকে ঢুকে গেছে ছোট-চাপা এক গলি। গলির শেষ মাথায় হাতের ডানে প্লাস্টার উঠে যাওয়া, উপরের দিকে জানালা ভাঙা, শ্যাওলা পরা একটি ভবনে ইউনিহেলথ হাসপাতালের অবস্থান। হাসপাতালটির ঠিক উল্টোদিকেই এলাকার ময়লা ফেলার ভাগাড়।
হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে নিচতলায় একটি ওষুধের দোকান, রিসিপশন আর অপেক্ষমান রোগীদের বসার স্থানে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা গেছে। সামনের দিকে অক্সিজেন সিলিন্ডার। ভেতরের দিকে সরু করিডোর, অপারেশন থিয়েটারের সামনে জুতা রাখার সেলফ, পাশের আরেকটি কক্ষে স্তুপ করে রাখা কার্টন।
হাসপাতালের নিচতলা থেকে উপরে উঠতে গেলে কথা হয়ে কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে। ময়লার ছবি তুলতে গেলে তারা বলেন, এই অবস্থাই, ভেতরে নোংরা, প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয় না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে রাখে, কাউকে কিছু বলা যায় না, সবার ব্যবহার খারাপ।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আগে মোহনা ক্লিনিক নামে পরিচালিত হতো। কয়েকবছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাংবাদিক ও কলামিস্ট জগলুল আহমেদ চৌধুরীকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসক না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই ঘটনার পর থেকেই মোহনা ক্লিনিক বন্ধ ছিল, কয়েক বছর আগে কোনও ধরনের উন্নতি না করে নতুন নাম দিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের চরিত্র বদলায়নি, কেবল নামটাই বদলেছে।
হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এই হাসপাতাল চালু হয়, তার আগে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে ছিল।
হাসপাতালের একাধিক অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি আইডি কার্ডসহ আসেন তারপর তথ্য দেব।’ এসময় তাকে আইডি কার্ড দেখানো হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন আছে। আমি কতটুকু দেব, আপনি কতটুকু নেবেন-সেটা দেখতে হবে।’