বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ইউজিসির তদন্ত টিমের সদস্যরাগোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠন করা তদন্ত কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন
রবিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. কাজী শহীদুল্লাহ- এর কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমন্টে বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন ও একই বিভাগের উপ-পরিচালক মৌলি আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন এবং ভিসির স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক স্থলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইউজিসি সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। অন্দোলনের মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এদিন বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. হুমায়ুন কবির। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ সেপ্টেম্বরের চিঠির আলোকে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ছাত্র আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দাখিলের অনুরাধ করা হয়। কমিটি গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন। পরে ইউজিসি এ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।