রাজধানীতে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি: সড়কে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি-দুর্ভোগ




মাসের শুরুর দিনের বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। ভারী বৃষ্টিপাতে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যায়। অনেক এলাকার সড়কে পানি ছিল হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত।আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এতেই নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেও বেলা ১২টার পর থেকে মুষুলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে দমকা থেকে ঝড়ো বাতাসও বয়ে যায়। ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তি ও দুর্ভোগ বাড়ে নগরবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর শুরু হওয়ার বৃষ্টিতে নগরীর ধানমন্ডি ৩২, শুক্রবাদ এলাকা, পান্থপথ, গ্রিণরোড, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসাপাতালের বর্হির্বিভাগের সামনের সড়ক, মিরপুর ১০, ১১, ১২, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, সেনপাড়া, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরি বাজার, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজারের ভেতরের বিভিন্ন গলি, রাজারবাগ, কমলাপুর, আরামবাগ, মতিঝিল, বঙ্গবাজার এলাকা, সিদ্দিক বাজার মোড়, নাজিরা বাজার, নাজিম উদ্দিন রোডসহ বিভিন্ন স্থানের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশের কারণে বিকল অবস্থায় যানবাহন পড়ে থাকতেও দেখা গেছে। বৃষ্টিতে কোনও কোনও এলাকা যেন নদীতে পরিণত হয়। পাশাপাশি বৃষ্টি থাকার পর সেসব এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে ট্রাফিক পুলিশকেও চরম ভোগান্তি সহ্য করতে হয়।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সমির উদ্দিন বলেন, সকালে অফিসের একটি কাজে মিরপুর ১০ নম্বরে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুপুরের বৃষ্টিতে সেখানে পানিতে আটকা পড়ি। পরে কোনোভাবে একটি বাসে উঠি। কিন্তু বাসটি শেওড়াপাড়া পর্যন্ত আসার পর পানিতে বিকল হয়ে পড়ে। এরপর হেঁটে কোনোভাবে আগারগাঁও পৌঁছেছি। সেখান থেকে পাঠাওয়ের রাইডে করে গুলিস্তানের অফিসে যাই।

বিকেলে নগরীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, নিউ মার্কেট মোড় থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে ধানমন্ডি ৩২ পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট। এসময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যানবাহন চালকদের বিকল্প সড়ক হিসেবে সায়েন্স ল্যাব থেকে পিলখানা সড়কটি ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকালও একই সময়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা অতিবৃষ্টি নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে শান্তিনগর, নাজিমউদ্দিন রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকার জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করেছি। বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আশাকরি জলাবদ্ধতা কমে আসবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোন কোন এলাকায় জলাবদ্ধতা আছে আমরা সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে আমাদের শেওড়াপাড়া, জসিমউদ্দিন রোড, উত্তরার বিভিন্ন এলাকা, আশকোনা হাজী ক্যাম্প সড়ক, মনিপুরি পাড়া ও মগবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে ঢাকা ওয়াসার এমডির (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সঙ্গে বসেছি। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা কাজ করবেন। তবে আমরা এরই মধ্যে কালশির জলাবদ্ধতা সমাধান করেছি। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো সমাধান করা হবে।

 

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন