বাসায় ইলিশ খেতে আইনে কোনও বাধা নেই

রান্না করা ইলিশ

ইলিশ মাছ যে কেউ বছরের যে কোনও সময়েই খেতে পারেন। স্বাভাবিক সময়ে তো বটেই নদীতে যখন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলে তখনও বাসায় ইলিশ রান্না করে খেতে আইনে কোনও মানা নেই। এজন্য আগে থেকেই কিনে বাসার ফ্রিজে জমিয়ে রাখা যেতে পারে চাহিদা মতো ইলিশ। বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা জানিয়েছেন সরকারের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু।

ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় আইনে বলা আছে, মজুত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বাসা-বাড়ির ভেতরেও আছে কিনা তা নিয়ে জনসাধারণের সংশয়ের শেষ নেই। নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময়ের আগে পারিবারিক চাহিদা মেটাতে কেনা ইলিশও মজুতের আইনে পড়ে কিনা সেটা জানতে আগ্রহী অনেকেই। এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর কাছে। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে কেনা ইলিশ যদি আপনার বাসায় থাকে, তা যদি এই সময় আপনি রান্না করে খান সেখানে আইনে কোনও বাধা নাই। এ মাছ আপনি খেতেই পারেন। তবে এ সময় আপনার বাসায় থাকা ইলিশ মাছ বাসার বাইরে কোথাও বহন করতে পারবেন না। কাউকে উপহার দিতে পারবেন না। সেখানে আইনের বাধা আছে। মোট কথা আপনি সেই মাছ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে বহন করতে পারবেন না। এমনকি ইলিশ দিয়ে কারও কাছ থেকে কোনও কিছু বিনিময়ও করতে পারবেন না।’

তবে এই সময়ে রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের খাবারের দোকানে ইলিশ বিক্রি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে কেউ ধরা পড়লে তাকে কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি এই সময়ে কেউ গোপনে বাসায় খাবার জন্য ইলিশ কিনতে গিয়ে ধরা পড়লে তিনিও একইরকম শাস্তি পাবেন।

উল্লেখ্য, দেশে এখন ইলিশের প্রজনন চলছে। তাই ইলিশের ৬টি অভয়াশ্রমসহ প্রধান প্রধান নদীতে এ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। গত ৯ অক্টোবর থেকে চলছে এই নিষেধাজ্ঞা। ২২ দিনব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সারাদেশে ইলিশ-আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

উল্লেখ্য, এ সময় মা ইলিশ সাগরের লোনা পানি ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে আসে ডিম ছাড়ার জন্য। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময় বলে এই সময়টিতে নদীতে ইলিশ না ধরার নিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে এই নিষেধাজ্ঞা ১৫দিনের জন্য হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়েছে, কারণ অনেক সময় সময়ের হেরফের হয়। এই সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।