মাহবুবে আলম বলেন, ‘নুসরাত হত্যা মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসেছে। এখন নিয়ম অনুসারে নথিগুলো আদালতের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন। তাড়াতাড়ি যেন এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়, দেখবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এ মামলায় দেশবাসীর আবেগ জড়িত এবং বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গোটা দেশবাসীর, কাজেই ত্বরিত শুনানির যত রকমের পদক্ষেপ নেওয়ার, আমি নেবো।’
এদিন দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স এসে পৌঁছে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান।
আইন অনুসারে বিচারিক আদালতে কোনও আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের ওপর হাইকোর্টে শুনানির পর আদেশ হয়।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের দুই হাজার ৩২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপিটি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে হাইকোর্টে জমা দেওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অফিস সহকারী শামসুদ্দিন।
গত ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলো—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।