অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার মামলায় ১৮ বছর ধরে নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে থাকা অশীতিপর রাবেয়া খাতুনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া, এ মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো.আল মামুন ও সংশ্লিষ্ট সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাহাবউদ্দিন মিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা। অন্যদিকে, রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম নোবেল।
রায় ঘোষণাকালে ‘সবাই মিলে বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অশীতিপর রাবেয়া: আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বৃদ্ধা রাবেয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘১৮ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দেই। মামলা শেষ হয় না। কবে শেষ হবে, তাও জানি না। পুলিশরে শরবত, মোরাব্বা বানাই খাওয়াছি। তারপরেও মামলায় আমারে আসামি বানাইছে। আমি আর বাঁচতে চাই না। মরতে চাই। অনেকদিন ধরে এই মামলায় হাজিরা দেই। আদালত আমাকে মামলা থেকে খালাসও দেয় না, শাস্তিও দেয় না।'
পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার এসআই আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ২০০২ সালের ২ জুন। মামলা নম্বর ১৯৩৮/০২। এরপর তিনি গ্রেফতার হন, ছয় মাস কারাগারে থেকে জামিনও পান। পরে তাকেসহ দুই আসামি জুলহাস ও মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয় মামলার বিচার।’
পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে দায়ের হওয়ার রিটের শুনানি নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল ১৮ বছর ধরে নিম্ন আদালতে চলমান থাকা মামলাটির কর্য্যক্রম ৩তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং অশীতিপর রাবেয়াকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে রুল জারি করেন। এরপর নথি তলব ও রুল শুনানি নিয়ে বুধবার রায় দিলেন হাইকোর্ট।