সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে কাজের ক্ষেত্রে শুধু আকামার (কাজের অনুমতিপত্র) মেয়াদ থাকাই যথেষ্ট নয়। নির্দিষ্ট স্পন্সরের বাইরে কাজ করলে তা সৌদি সরকারের কাছে অবৈধ। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে যদি কোনও বাংলাদেশিকে আটক করা হয়, তাহলে তা দূতাবাসে জানাতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) শ্রম উইংয়ের পক্ষ থেকে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সৌদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ধরপাকড় ও বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রচারিত সংবাদ ও ভিডিওর প্রতি রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এবিষয়ে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী কর্মীদের জন্য সৌদি সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে শেষ হয়ে গেছে। উক্ত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সৌদি সরকার ঘোষিত ‘ন্যাশন উইডাউট ভায়লেশন’ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরবের আকামা, বর্ডার ও শ্রম আইন ভঙ্গকারী প্রবাসী কর্মীদের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সৌদি সরকারের অর্থায়নে ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
আরও বলা হয়, প্রবাসী বাংলাদেশি অনেক কর্মীই স্পন্সরের নিকট হতে ইকামা (রেসিডেন্ট আইডি) নিয়ে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসায়’ বাইরে কাজ করেন অথবা ব্যবসা করেন এবং তারা মনে করেন- ইকামা থাকাই তাদের বৈধতার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কোনও কর্মীর কাছে শুধু আকামা থাকাই তার বৈধতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। বৈধ ও মেয়াদযুক্ত আকামা নিয়ে যদি কেউ স্পন্সরের বাইরে কাজ করেন, স্পন্সরের কাজ হতে পালিয়ে যান কিংবা আকামা, বর্ডার ও শ্রম আইনের কোনও ধারা ভঙ্গ করেন; তাহলে তাকে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটক করে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে।
এছাড়াও সৌদি সরকার কর্তৃক সম্প্রতি কিছু পেশা ও সেক্টরে ননসৌদিদের কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় সেসব পেশায় যদি কোনও প্রবাসী নিযুক্ত থাকেন, তিনি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং এরকম অবৈধ প্রবাসীদেরও সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী কোনও কর্মী ডিপোর্টেশনে আটক থাকা অবস্থায় উক্ত কর্মীর নিয়োগকারী যদি মনে করেন যে- আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার কর্মীকে আটক করেছে, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আমিরের অফিসে (গভর্নরের কার্যালয়) আবেদন করে উক্ত কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে পারেন।
এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি প্রতিদিন রিয়াদ ডিপোর্টেশন সেন্টারে সৌদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বক্তব্য শোনা, তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যক্রম করে থাকেন। রিয়াদ ডিপোর্টেশন সেন্টারে আটক কোনও বাংলাদেশি কর্মী যদি সাক্ষাৎকালে দূতাবাসের উক্ত প্রতিনিধিকে জানান যে- তিনি নির্দোষ, তাহলে দূতাবাসের তরফ হতে নিয়ম মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে অবগত করা হয় এবং দূতাবাসের অবগতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
এছাড়াও বাংলাদেশে প্রত্যাগত কোনও কর্মীর নিকট থেকে এবিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে/ ইমেইলের মাধ্যমে পাওয়া গেলেও দূতাবাসের তরফ থেকে উক্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য নিয়ম অনুযায়ী সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়ে থাকে। কারও নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে- সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সৌদি প্রবাসী কোনও বাংলাদেশিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আটক করা হয়েছে, তাহলে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং এ লিখিত অভিযোগ সরাসরি দাখিল কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।