দিনের পর দিন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেই চলছে। এতে ট্রেনের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই গুরুতর আহত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেল সূত্র বলছে, সম্প্রতি টাঙ্গাইল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত এলাকায় ট্রেনে পাথর মারা খুব বেড়ে গেছে। একারণে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দিনভর এই এলাকায় পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের উদ্যোগে এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি গাজীপুর জেলার মৌচাক, কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ইত্যাদি এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কিছু ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সাধারণ যাত্রী আহত হন এবং বিভিন্ন ট্রেনের কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা রোধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন থেকে জয়দেবপুর স্টেশন পর্যন্ত দিনব্যাপী প্রচারণা চালানো হয়। মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) এর নির্দেশে এই প্রচারণা অভিযান পরিচালনা করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ফুয়াদ হোসেন আনন্দ, কমান্ড্যান্ট আরএনবি (পাকশী) রেজওয়ানুর রহমান এবং সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেন্ডেন্ট তারেক ইমরান। রেললাইন এর আশেপাশের ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ, হাট বাজার, স্কুল, মসজিদে গিয়ে তারা পথসভা পরিচালনা করেন এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
এই প্রচারণার বিষয়ে ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ফুয়াদ হোসেন আনন্দ জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন একটি ফৌজদারি অপরাধ। এটি সাধারণ ছেলেখেলা না স্যাবোট্যাজ তাও বোঝা যাচ্ছে না। একারণে প্রাথমিকভাবে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের সমন্বয়ের অভাব আছে। সবাই মিলে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া পাথর নিক্ষেপ বন্ধ করা যাবে না।’