হলি আর্টিজান হামলার রায় ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার: র‌্যাব ডিজি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ

 

হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবারের (২৭ নভেম্বর) রায়কে সামনে রেখে আজ  মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন মনে হলে যে ক’দিন নিরাপত্তা জোরদার রাখা দরকার, সে ক’দিনই রাখা হবে। আর  শুধুমাত্র স্পেশাল অ্যালার্ট না, এ ধরনের ঘটনায় বাইরে (বিদেশে) সব সময় সতর্ক অবস্থা থাকে। যেন জঙ্গিবাদীরা ধ্বংসাত্মক কিছু করতে না পারে। সেজন্য আমরা সবসময় খেয়াল রাখি। র‌্যাবের প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নে জঙ্গিবিরোধী সেল রয়েছে। আমাদের সেলগুলো টুয়েন্টি ফোর আওয়ার কাজ করছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা তত্ত্ব কথায় বিশ্বাস করি না। আমরা কাজে বিশ্বাস করি। আমাদের লেট ডাউন স্ট্রাটেজি নাই। অনেক দেশে আছে, কিন্তু আমাদের দেশে নাই। একেবারে যে কিছুই নাই— তা কিন্তু নয়। প্রধানমন্ত্রীর শূন্য সহিষ্ণু নীতি আছে। এটাতো একটা স্ট্র্যাটেজি, ডিক্লেয়ার পলিসি। ব্রিটেনে হয়তো লেট ডাউন পলিসি আছে, আমাদের নাই। কিন্তু তাদের তো কনস্টিটিউশন নাই, আমাদের তো আছে। তার মানে তো ব্রিটেন অচল নয়। আসলে একেক দেশের একেক ধরনের পলিসি। প্রত্যেকটি দেশ ইউনিক। আমাদের দেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও অর্থনীতি সব মিলিয়ে পলিসি নির্ধারিত হবে। কপি পেস্ট দিয়ে এসব কথা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অ্যান্টি টেরোরিজম, মানি লন্ডারিং আইন, আইসিটি আইন আছে। সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও প্রথাগত কৌশল রয়েছে। আমাদের মতো করে কার্যকর পলিসি  রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আমরা লট অফ সাকসেস পেয়েছি। আমাদের কর্মকৌশল আমাদেরকে ফল দিয়েছে। আমাদের যে সমন্বয় নাই, তা কিন্তু নয়, আমাদের সমন্বয় রয়েছে। সমন্বয় মেকানিজম রয়েছে।’

হলি আর্টিজান হামলার ব্যাপারে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কী তথ্যের ঘাটতি ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা প্রতিমাসে অনেক ঘটনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করি, কিন্তু সেগুলো সামনে আসে না। আপনি শতভাগ সফল হবেন তা কিন্তু নয়। ১০০ ঘটনার মধ্যে ৯৯টিতে সফল হলো। কিন্তু একটি মাত্র ঘটনায় সফল হতে পারলো না বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যর্থ বলা যায় না। এটি বলা নিষ্ঠুর হবে। আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশে আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি, সেখানে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট অর্জন ও সফলতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার পর অনেক দেশ কীভাবে রি-অ্যাকশন দেখিয়েছে— আমাদের মেগা প্রজেক্ট, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। আমাদের দেশ থেকে বিদেশি  এক্সপার্টদের, বৈদেশিক বিনিয়োগ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবাই মিলে কাজ করে কিন্তু উন্নয়নের ধারা গতিশীল রেখেছি।’

জঙ্গি হামলার ঝুঁকি এখনও রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়। বিশ্বের সব দেশের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে সমূলে পরাস্ত ও বিনষ্ট না করা পর্যন্ত জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থাকবে। সুতরাং, সব দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। আমরা এক্ষেত্রে পুরোপুরি সচেতন ও সতর্ক।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘জঙ্গিরা প্রতিনিয়ত মার খাচ্ছে। ধরা পড়ছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত তারা কর্মকৌশলও পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশে জঙ্গিরা এখন কাজ করছে সেলভিত্তিক। ২/৩ জন মিলে সেল তৈরি করছে। যখনই তাদের সম্পর্কে তথ্য মিলছে গ্রেফতার করা হচ্ছে। নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তাদের যা ক্যাপাসিটি আছে, তার চেয়ে বেশি আন্তরিকতা নিষ্ঠা দায়িত্ব কর্তব্য থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।’