তিনি বলেন, ‘বুধবার (২৭ নভেম্বর) হলি আর্টিজান মামলার রায় ঘোষিত হবে। এটি আমি মনে করি যে, আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। হলি আর্টিজানের দুঃখজনক ঘটনা হলো, এই হামলায় নিরীহ সাধারণ মানুষ বিনা কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
‘হলি আর্টিজানের ঘটনা দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা দেশের মানুষের কল্পনায় ছিল না। তারপরও এই ঘটনাটি ঘটেছে।’
র্যাব ডিজি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যখনই জঙ্গিবাদের উত্থানের চেষ্টা হয়েছে, তখনই আমরা তাদের নস্যাৎ করে দিয়েছি, বারবার ডিসমেন্টাল করে দিয়েছি। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর থেকে আমরা এখন পর্যন্ত ৮০৯ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছি। র্যাব ফোর্সেসের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে থেকে কখনো দৃষ্টি সরাইনি। এমন কোনও সপ্তাহ নেই, যে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়নি। কোথাও না কোথাও জঙ্গি অপারেশন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত গোলাগুলিতে ২৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। আমাদের অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত রয়েছে শুধুমাত্র অভিযান নয়, আমরা বহুমুখী কাজ করছি। আমরা জঙ্গিবাদ বিরোধী বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি, লিফলেট, স্টিকার বিতরণ করছি।’
‘আমরা জঙ্গিবাদবিরোধী অ্যাপস, বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে। এসব আমাদের বহুমুখী তৎপরতার অংশ। তবে আত্মতুষ্টির কোনও কারণ নেই, কারণ বৈশ্বিকভাবে জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ পরাস্ত না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকেই যাবে।’
ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা গেছে, তবে তাদের যে দর্শন সেটাকে ভেঙে দেওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে কি ধরনের কর্মকৌশল র্যাবের রয়েছে, জানতে চাইলে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, এক্ষেত্রে কর্মকৌশল হচ্ছে জনসচেতনতা, ডিরেডিক্যালাইজেশন। রেডিক্যালাইজেশনকে স্টপ করা। যারা যারা রেডিক্যালাইজেশন তাদেরকে ডিরেডিক্যালাইজড করা। সামাজিক পুনর্বাসন করা, কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
জঙ্গিবাদে মোটিভেটদের সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ডিমোটিভেটেড করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।