শ্রমিকরা এখনও পণ্য হিসেবে বিবেচিত: গওহর রিজভী

2222শ্রমিকরা এখনও পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ‘ফিউচার অব ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপন করছে আইএলও। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ সংলাপের আয়োজন করে তারা।
আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে একীভূত করে জাতীয় আইন বা নীতি প্রণয়ন, ত্রি-পাক্ষিক সংলাপ, শিশুশ্রম, দক্ষতার উন্নয়নে বিনিয়োগ ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে এই সংলাপে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গওহর রিজভী বলেন, ‘যে সম্পদ শ্রমিকরা তৈরি করছেন, সেই সম্পদে তাদের অধিকারই নিশ্চিত করতে পারে সামাজিক ন্যায়বিচার।’
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, জনকল্যাণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য আইএলও বাংলাদেশকে শ্রমব্যবস্থাকে সংস্কারের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত কনভেনশন ১৩৮ এবং ২৯ সই করার আহ্বান জানান অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইএলও’র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ-মহাপরিচালক পানুডা বুনপালা।
ন্যাশনাল কোর্ডিনেশন কমিটি অন ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আইএলওর কনভেনশন ১৮৯ ও ১৯০ দ্রুত স্বাক্ষর এবং কার্যকর করা হলে শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে উপকৃত হবেন। এই দুটি কনভেনশন যথাক্রমে গৃহকর্মে নিযুক্ত শ্রমিক এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে ভার্সাই শান্তি চুক্তির ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় আইএলও। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে— এই ভাবনায় আইএলও’র পথচলা শুরু হয়েছিল।