ভূমধ্যসাগরে মানবপাচার: হাইকোর্টে জামিন নামঞ্জুর দুই আসামির

02

ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের পাচারের অভিয়োগে দায়ের করা মামলায় সিলেটের নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজের এনামুল হক ও আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিরোজ আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

এর আগে, গত ৯ মে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার ভূমধ্যসাগরের তিউনেশিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮৫ থেকে ৯০ জন নিহত ও নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ৩৯ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় মফিজ উদ্দিন তার আত্মীয় মারা যাওয়ায় ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা মানি লন্ডারিংয়ের জন্য ও মানবপাচার আইনে গত ১৭ মে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

পরে গত ১৭ মে তিনজনকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—শরীয়তপুরের বাসিন্দা মো. আক্কাস মাতুব্বর, সিলেটের বাসিন্দা এনামুল হক তালুকদার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আবদুর রাজ্জাক।

সিলেটের জিন্দাবাজারে এনামুল হকের ‘ইয়াহিয়া ওভারসিজ’ নামে একটি এজেন্সি রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানবপাচার করছেন। তার প্রতিষ্ঠানের দালাল হিসেবে কাজ করেন আবদুর রাজ্জাক। পরে ওই একই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় আরও দুটি মামলা করেন।

নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে আসামিরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি নিয়ে কেন এসব আসামিকে জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। গত ১৪ অক্টোবর এ রুল জারি করা হয়। সে রুল নিষ্পত্তি করে  বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রায় দিলেন হাইকোর্ট।