চালকদের খামখেয়ালির কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী বাসচাপা থেকে রেহাই পাচ্ছে না: আদালত

আদালতজাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নিহত দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খাতুন মীম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘বর্তমানে চালকদের খামখেয়ালির কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী বাসের চাপা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ড্রাইভার, মালিক ও পুলিশ বাহিনী আরও সতর্ক থাকা দরকার। বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশকে বেশি লক্ষ রাখতে হবে।’

বিচারক বলেন, ‘মালিক পক্ষদের লক্ষ রাখতে হবে যেন দক্ষ বাসচালকদের বাস চালানোয় নিয়োগ দেওয়া হয়। হালকা যানের লাইসেন্সধারীদের কোনোভাবেই যেন ভারী যানচালক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া হয়।’

রবিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে জাবালে নূর বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নিহত দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খাতুন মীম হত্যা মামলায় দুই চালকসহ তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন−জাবালে নূরের চালক মাসুম বিল্লাহ, আরেক গাড়ির চালক জোবায়ের সুমন ও হেলপার আসাদ কাজী। আসাদ পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় বাকি দুই আসামি হেলপার এনায়েত হোসেন এবং বাস মালিক জাহাঙ্গীর আলম খালাস পেয়েছেন।

১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন বিচারক। এ মামলায় ৩৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

অপর আসামি জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাত হোসেন আকন্দের মামলার অংশ উচ্চ আদালত স্থগিত করায় সে বিষয়ে রায় হয়নি।

২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নেমে সেখানে দাঁড়ায়। এ সময় পেছন থেকে জাবালে নূরের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রাজীব ও দিয়া। আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিহত দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।