শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের পরিচালক পদ বাতিল বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজবাংলাদেশ পুলিশ  প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, আইজিপি, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং পরিচালক পদে দায়িত্বরত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে এ রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামীম খালেদ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

পরে শামীম খালেদ বলেন, ‘কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদ নিয়ম বহির্ভূতভাবে সৃষ্টি করা হয়। তাই ওই পদটি কেন বাতিল করা হবে না এবং প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কেন যথাযথ ব্যবস্থা  গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন।’

এর আগে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট কলেজটির দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে ‘দুর্নীতি-অনিয়মে ডুবছে পুলিশ স্মৃতি কলেজ’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে  সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সংবাদ সংযুক্ত করে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জনস্বার্থে বাদী হয়ে ওই রিট দায়ের করেন।

প্রকাশিত ওই সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অসংখ্য অভিযোগে জর্জরিত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ। নিয়মিত অডিট কার্যক্রম না করিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কলেজের একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্নিষ্টদের দাবির মুখে শুধু একবছরের অডিটেই বিপুল অংকের টাকা গরমিলের চিত্র উঠে আসে।

এছাড়া, কলেজটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে নানা অব্যবস্থাপনা অনুসন্ধানে কাজ করছে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডিরেক্টর নামে একটি পদ সৃষ্টি করে সে পদে বহাল থাকেন সৈয়দ মনিরুল ইসলাম। তবে ডিরেক্টর নামে কোনও পদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের  স্বীকৃত নয়।’