পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চায় দুদক

 

বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যানপাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে অস্ট্রেলিয়ান কমিশন ফর ল’ এনফোর্সমেন্ট ইন্টিগ্রিটি ও অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড- এর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এবং অস্ট্রেলিয়ান কমিশন ফর ল’ এনফোর্সমেন্ট ইন্টিগ্রিটির নির্বাহী পরিচালক ক্রেইগ ফারি ও অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেইন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের সহকারী পরিচালক ড. স্টিফেন ম্যাকেলেহিনির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের কাছে সহযোগিতা চান।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

বৈঠকে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর বড় সমস্যা হচ্ছে, দুর্নীতিপরায়ণরা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অন্য দেশে পাচার করে থাকে। তাই বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে করতে হলে  সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশকিছু দুর্নীতির মামলা বিশেষ করে অর্থপাচার মামলায় বিভিন্ন দেশের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের আওতায় তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।  এসব মামলায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থপাচার কমে আসবে।  অপরাধীরাও অর্থপাচার করার সাহস হারিয়ে ফেলবে। সবার সাহায্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশে অর্থপাচারসহ সব ধরনের দুর্নীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমে আসবে।’ 

ইকবাল মাহমুদ অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে কিছু দুর্নীতিবাজ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেছে। এই দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এই দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা ও পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে  অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা জরুরি।’

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন, সততা সংঘ, সততা স্টোর , দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বহুমাত্রিক কার্যক্রম তুলে ধরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সামনে রেখে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।  নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিনির্মাণে দুদক কাজ করছে।’

এদিকে, আবুধাবিতে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপ্যাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেমস এ. ওয়ালশের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এফবিআইয়ের সার্বিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে এফবিআই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন, প্রতিরোধ ও উত্তম চর্চার বিকাশে এ জাতীয় পারস্পরিক সহযোগিতা দুর্নীতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’