পিবিআইয়ের পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কান্তি চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আমরা আর্থিক লেনদেনের বদলে ‘পরকীয়া’র জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল বলে জানতে পারি। পরে অভিযান চালিয়ে গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে হায়াত আলী নামে এক যুবককে গ্রেফতারের পর সে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয় ও কারণ জানায়। অপর আসামি ঠান্ডু পালিয়ে ওমান চলে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া আসামি ঠান্ডুর স্ত্রী সালমা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে পুনরায় চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার এলাকায় শহিদুলকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শহিদুলের ভাই পাহাড়ি রাজু সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা [নং-৪(১১)২০১৬] দায়ের করেন। মামলাতেও বিদেশে লোক পাঠানোর নামে আর্থিক লেনদেনের কারণে শহিদুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। থানা পুলিশের পর মামলাটির তদন্তভার পাবনা জেলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি হত্যাকারীদের ধরতে ব্যর্থ হয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি সালমা, বেগম আক্তার ও ইসমাইলকে অব্যাহতি দিয়ে এবং অপর দুই আসামি ঠান্ডু ও হায়াতকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, নিহত শহিদুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধুবাউড়া থানাধীন চারুয়াপাড়া বাজার এলাকায়। একই এলাকায় আসামি ঠান্ডু মোল্লার শ্বশুরবাড়ি। ঠান্ডু ওমানে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী সালমা খাতুনের সঙ্গে শহিদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছুটিতে দেশে ফিরে জানতে পেরে ভাগনে হায়াতকে নিয়ে সে শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঠান্ডু পরিকল্পনা অনুযায়ী সালমাকে দিয়ে ঘটনার দিন শহিদুলকে ময়মনসিংহ থেকে পাবনার বেড়া সিঅ্যান্ডবি স্ট্যান্ডে যেতে বলে। ঠান্ডু ও হায়াত আগে থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সালমার কথামতো শহিদুল ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে পাবনা সিঅ্যান্ডবি স্ট্যান্ডে পৌঁছায়। এরপর সালমা কৌশলে শহিদুলকে করমজা বাজারের কাছে নিয়ে গেলে সন্ধ্যার পর তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায় ঠান্ডু ও হায়াত।
গ্রেফতারকৃত হায়াত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, পরিকল্পনা মতো সালমা ও শহিদুল সাক্ষাৎ করে একে অপরের হাত ধরে একসঙ্গে হাঁটতে থাকে। খানিক পর অন্ধকার নামলে পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তারা পেছন থেকে শহিদুলকে জাপটে ধরে। ঠান্ডু সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহিদুলের বুকে ও পেটে একাধিক ছুরিকাঘাত করে। শহিদুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় শহিদুলকে স্থানীয় লোকজন প্রথমে বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর তার মৃত্যু হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই আসামি ঠান্ডু আবার ওমান চলে যায়। ঠান্ডুর স্ত্রী সালমা ও ভাগনে হায়াতও আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির তদন্ত চলাকালে অর্থ লেনদেনের কারণে ঠান্ডু তাকে হত্যা করেছে উল্লেখ করে ঠান্ডু ও হায়াতের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। মামলা থেকে অপর দুজনসহ সালমাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে নেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সবুজ আলী জানান, নতুন তদন্তে সালমার নাম উঠে এলেও জামিনে থাকার কারণে তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে সালমা, ঠান্ডু ও ভাগনে হায়াতের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।