এতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী পাঁচ কোটি ২০ লাখ শিশু কৃশকায় (উচ্চতার তুলনায় কম ওজন), ১ কোটি ৭০ লাখ শিশু মারাত্মক রকমের কৃশকায় এবং ১৫ কোটি ৭৫ লাখ শিশু খর্বকায় (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা)। অনেক দেশ অপুষ্টি বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে না।
অপুষ্টির শিকার অনেক শিশুই পরবর্তীতে পর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ সত্ত্বেও সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এর ফলে তাদের মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ ঘটে না এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাদের আন্ত্রিক জীবাণু বা গাট মাইক্রোব (ব্যাকটিরিয়ার মতো জীবাণু) অপরিপক্ব থাকার ফলে এমন ঘটে। আইসিডিডিআর,বি এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটিই শিশুদের অপর্যাপ্ত বিকাশের কারণ এবং সব ধরনের খাবার এই সমস্যা সমাধানে সমান কার্যকর নয়।
গবেষকরা শিশুদের সুস্থ অন্ত্রে থাকা প্রধান প্রধান ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন প্রাণীর কী ধরনের খাবার গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী জীবাণুদের উজ্জীবিত করে তুলতে সক্ষম তা পরীক্ষা করে দেখেন। পরবর্তীতে মিরপুর এলাকার ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সী ৬৮টি শিশুকে নিয়ে একটি গবেষণা করে অন্ত্রের ওপর খাদ্যবিন্যাসের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন এবং কীভাবে উপকারী জীবাণু ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয় তা দেখেন। এই গবেষণার আরেকটি প্রধান ফল ছিল, শিশুর দেহে উৎপন্ন প্রোটিনের ওপর খাদ্যবিন্যাসের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা।
এ নিয়ে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সায়েন্স জার্নালে দু’টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা যায়, কিছু সুনির্দিষ্ট পুষ্টিকর সম্পূরক খাদ্য বিশেষ করে কাঁচা কলা, ছোলা, সয়াবিন এবং চীনা বাদামের গুঁড়ার (পিনাট ফ্লাওয়ার) মাধ্যমে এসব শিশুর অন্ত্রের উপকারী জীবাণু পুনরূজ্জীবিত করা সম্ভব। এসব খাদ্যবিন্যাস ব্যবহার করে বড় মাপের ক্লিনিক্যাল গবেষণা বর্তমানে আইসিডিডিআরবিতে চলমান। আইসিডিডিআরবি’র নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. তাহমিদ আহমেদ এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি গর্ডন ২০১৪ সাল থেকে এই গবেষণা পরিচালনা করে আসছেন।
ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের অপুষ্টি নিরাময়ে প্রচলিত কার্যক্রমে পুষ্টিকর খাবারকে কাঁচা কলা, ছোলা (চিকপি), সয়াবিন এবং চীনা বাদামের গুঁড়া (পিনাট ফ্লাওয়ার) সমৃদ্ধ খাদ্যবিন্যাসের সাহায্যে উজ্জীবিত করা হলে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি এবং এ সংক্রান্ত ভয়াবহ জটিলতা রোধ করা সম্ভব হবে। যদি চলমান বড় পরিসরের গবেষণা আমাদের গবেষণালব্ধ ফলাফলকে সমর্থন করে তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের অপুষ্টি লাঘবে এ গবেষণা ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে।’
প্রসঙ্গত, সায়েন্স হলো আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স-এর জার্নাল। ১৮৮০ থমাস এডিসনের আর্থিক সহায়তায় এটি প্রতিষ্ঠা হয়। তখন থেকেই এটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা পালন করে আসছে।