মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রাফিজা শাহীন। সংগঠনটি নিয়মিত আটটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশু অর্থাৎ ৯৮৬ শিশু নিহত হয়েছে বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫৫৩ এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে ২৫২ শিশু। এছাড়া ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা, হত্যা, অপহরণ, নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে আরও ৩৬১ জন শিশু।
রাফিজা শাহীন বলেন, ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেছে ৬৫ জন শিশু এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়েছে ৯ জন। এ সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ৯৩ শিশু। উপস্থাপিত তথ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৩২৯ শিশু।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫২ জন। এছাড়া ২০১৯ সালে অপহরণের শিকার হয়েছে ৮৩টি শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ জন এবং আহত হয়েছে ৭১ জন। নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫৯ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১২ জন এবং আহত হয়েছে ১৪৭ জন। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫ জন শিশু। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তিনজন শিশু নির্যাতিত হয় এবং তাদের মধ্যে দু’জন মারা যায়। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে নির্যাতিতের সংখ্যা বেড়েছে।
এসব ঘটনার কারণ হিসেবে সংগঠনটি জানিয়েছে, পরীক্ষায় ফেল, পরিবারের ওপর রাগ, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার শিকার, বাল্যবিবাহ, হতাশা, পড়াশোনা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকিতে ব্ল্যাকমেইল উল্লেখযোগ্য।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রমুখ।