সারাদেশের মতো সাভারের ধামরাই পৌরসভাতেও নির্বাচনী উত্তেজনার আঁচ লেগেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ ও প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে ওয়ার্ডগুলো। হাট-বাজারের চায়ের দোকানগুলোয় চলছে নির্বাচনি আলাপচারিতা। তর্কে-বির্তকে প্রিয় প্রার্থীদের এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা। তবে এবার ধামরাই পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রায় আধাডজন প্রার্থী অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি সমর্থিতরা এর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবার ধামরাই পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন ছয় জন। তারা হচ্ছেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহ্বাজ গোলাম কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী শফিক আনোয়ার গুলশান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র সাহেব আলী, সাবেক যুগ্ম সচিব দেওয়ান আফসার উদ্দিন জিন্নাহ ও আব্দুস সাত্তার মেম্বর। তারা গত দুই মাস ধরে মনোয়নের আশায় দৌঁড়-ঝাপ করছেন।
পাশাপাশি বিএনপি থেকে পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপির পৌর সভাপতি আলহ্বাজ দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভি মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে দৌঁড়াচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী গত দুই মাস ধরে তাদের নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জনসংযোগ, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও বিলবোর্ডে প্রচারণাসহ বেশ কিছু শোডাউনও করেছেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এই সম্ভাব্য ছয় প্রার্থীর জনসংযোগে অনেকটা দ্বিধায় ভুগছেন এখানকার জনগণ। এছাড়া ঢাকা-১০ আসনের (ধামরাই) আওয়ামী লীগ বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজির আহম্মেদের গ্রুপ দুই বলয়ে বিভক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা এবারের পৌর মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুগছেন সিদ্ধান্তহীনতায়।
আওয়ামী লীগে এই গ্রুপিং ও ডজনখানেক প্রার্থীদের প্রচারণা দ্বন্দ্বে সুযোগের সন্ধানে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এই গ্রুপিংয়ের কারণেই গতবারের পৌর ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাই বাড়তি সুযোগ পেয়েছিলেন। যা তারা কাজেও লাগিয়েছেন।
তবে বিএনপির দুই প্রার্থী বর্তমান মেয়র মঞ্জুর কোনও গ্রুপ না থাকায় অন্য সব দলের প্রার্থীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিএনপির আরেক মেয়র প্রার্থী ছাত্রনেতা নাজমুল হাসান অভিও রয়েছেন একই সুযোগের সন্ধানে।
তবে এ ধরনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন ধামরাইয়ের বর্তমান সাংসদ এমএ মালেক। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি থাকলে এদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী যেমন বেশি বুদ্ধিমত্তার হয়। তেমনি নির্বাচনি যুদ্ধেও হাফ ডজন প্রার্থীদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তাকেই ভোটাররা পৌরপিতা নির্বাচন করবেন। এক্ষেত্রে সুযোগ সন্ধানীদের সফল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।’
পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে স্বীকার করে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি বেনজির আহম্মেদ বলেন, ‘এখন দল কী করবে তা জানি না। তবে দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাকেই মনোনয়ন দেন তার পক্ষেই দলের সব নেতাকর্মীদের মিলেমিশে হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করে পৌর সিংহাসনে বসানো যাবে। আর যদি প্রার্থী নিয়ে দলীয় কোন্দল হয় তাহলে এ বছরও পৌরমেয়র কে হবে তা সকলেই জানেন।’
ধামরাইয়ের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে গণসংযোগ করছে। তাই সবাইকে এক কাতারে আনতে হলে ভোটের আগেই প্রার্থী চূড়ান্তের জন্য সব প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীদের একত্রে বসা উচিত।
বর্তমান মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে গত নির্বাচনের চেয়ে এবার তিনি বেশি ভোট পাবেন।
ধামরাইয়ের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, এবার আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ধামরাই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪১ হাজার ১৭৯ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ১৬৭ জন এবং নারী ২১ হাজার ১২ জন। প্রথম ধাপে যে কয়টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে ধামরাইও রয়েছে। তিনি আশা করছেন ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এই পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সবার সহযোগিতায় পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেও তিনি আশা করছেন।
/এসএম/এসটি/