বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিকিৎসায় এই পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা আমার নিজের কিছু না, আল্লাহর রহমত। সরকারকে ধন্যবাদ। আর ভালো তো লাগছেই। বাবা-মা, যারা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন, তাদের মনে পড়ছে। আমার শিক্ষকদের কথা মনে পড়ছে। আর আমার ছাত্র-ছাত্রীরা, তারা এই বিষয়টি (সায়েবা’স মেথড) নিয়ে অনেক লড়াই করেছে, ওদের ভীষণ মনে পড়ছে।’
এই স্বীকৃতি দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা তো অবশ্যই। যেকোনও স্বীকৃতি, যেকোনও প্রাপ্তি দায়িত্ব-কর্তব্য আরও বাড়িয়ে দেয়।’ সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তারের জন্ম চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সেখানেই তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক এবং অবসটেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
“সায়েবা’স মেথড”-এর আবিষ্কারক সায়েবা আক্তার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে ২০ শয্যার দাতব্য হাসপাতাল ‘মামস ইনস্টিটিউট অব ফিস্টুলা অ্যান্ড ওমেনস হেলথ’ গড়ে তুলেছেন।
প্রসব-পরবর্তী জরায়ুর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান অনেক মা। জন্মনিরোধ পদ্ধতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত কনডম দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন সায়েবা আক্তার, যা “সায়েবা’স মেথড” নামে পরিচিত। তার এ সাফল্যে সারাবিশ্বে হইচই পড়ে যায়। অনুন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে এই সহজ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী মায়েদের মৃত্যুহার অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে।