এর আগে নিজামীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন শেষ যুক্তিতর্কে নিজামীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমি দেশ অখণ্ডতায় বিশ্বাস করতাম। বলছি না যে আমি দুধে ধোয়া। কিন্তু সরাসরি কোনও ঘটনায় জড়িত ছিলাম না।’
নিজামীকে উদ্ধৃত করে খন্দকার মাহবুব আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি একজন ২০ বছরের যুবক। এত অল্প বয়সে আল বদরের নেতা হয়ে আমি পাকিস্তান আর্মির নেতা হতে পারি না এবং সরাসরি হত্যা ও লুণ্ঠনের সাথেও আমার সম্পৃক্ততা ছিল না।’
খন্দকার মাহবুব নিজামীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে আরও বলেন, পাকিস্তানি আর্মিদের ১৯৫ জনের মধ্যে যারা সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছে, তাদের বিচার হচ্ছে না। অথচ আমি সমর্থন করেছিলাম রাজনৈতিক কারণে।
প্রধান বিচারপতি এসময় বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আইনে সহযোগীদেরও বিচার ও শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাস পাওয়া চারটি অভিযোগের বিষয়ে শুনানিকালে তিনি বলেন, ১১ থেকে ১৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছিল আমি নানা বক্তব্য, বিবৃতি দিয়ে উসকানি দিয়েছি অথচ প্রমাণ করতে পারেনি।
খন্দকার মাহবুব বলেন, বিচারকরা অন্ধ। তারা কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া বিশ্লেষণ করতে পারেন না। প্রধান বিচারপতি এসময় বলেন, আমরা বিচারের ক্ষেত্রে অন্ধ, কিন্তু এখানে আমরা বিচারকরা অন্ধ নই।
শুনানিতে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘ইউটিউবে প্রসিকিউশনের ১৪তম সাক্ষী বলেছেন, জ্বালানো-পোড়ানোর ঘটনায় নিজামী জড়িত ছিলেন না। আমরা ভিডিওটি আপনার কাছে জমা দিয়েছি।’ প্রধান বিচারপতি এসব নথি দেখবেন বলে জানান।
বুদ্ধিজীবী হত্যার বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া শহীদ ডা. আবদুল আলীমের স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ও বুদ্ধিজীবী আজহারুল ইসলামের বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য আছে দাবি করে মাহবুব বলেন, তারা দুজনেই তাদের সাক্ষাতকারে কখনোই নিজামীর জড়িত থাকার বিষয়ে না বললেও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তারা দুজন ‘নিজামী উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন’ বলে আদালতকে জানান। প্রধান বিচারপতি নিজামীর আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, একাত্তরে জামায়াত ও এর নেতাদের কর্মকাণ্ড দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে।
শুনানি শেষে আগামী ৬ জানুয়ারি রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ।
২ ডিসেম্বর নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবীরা। যুক্তিতর্ক শেষে তারা নিজামীর বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শাস্তি কমানোর আবেদন জানান।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। এরপর একই বছর ২৩ নভেম্বর ১৬৮টি যুক্তি দেখিয়ে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন নিজামীর আইনজীবীরা।
/ইউআই/এফএ/