তথ্য গোপন করে কুতুবদিয়ার ওসির বিরুদ্ধে রিট, আইনজীবীকে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা

হাইকোর্টকক্সবাজারের কুতুবদিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে রিট দায়ের করেন কথিত মানবাধিকারকর্মী মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল নামের এক ব্যক্তি। তবে এর শুনানিতে রিটকারীর বিরুদ্ধে থাকা ১১ মামলার তথ্য গোপন করায় তার আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ভর্ৎসনা করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ কে এম আলমগীর পারভেজ ভূঁইয়া। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম।
দিদারুল ফেরদৌস ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে সেখানে জলদস্যু নির্মূলসহ নানা প্রশংসনীয় কাজ করছেন তিনি। এ কারণে ২০১৮ সালে আইজি ব্যাজ পদকে ভূষিত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। কথিত মানবাধিকারকর্মী মুকুলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ১১টি মামলা করা হয়। তিনি এর আগেও ওই থানার আগের ওসিসহ আটজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন।
তবে ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মুকুল ওসি ফেরদৌসের বিরুদ্ধে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিট আবেদনে বলা হয়, তিনি (মুকুল) দুদকের কাছে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর ওসি ফেরদৌসের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুটি আবেদন করেছেন। কিন্তু তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মুকুলের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য দুদককে নির্দেশ দেন ও রুল জারি করেন। তবে দুদক খোঁজখবর নিয়ে রিটকারীর অভিযোগ ভিত্তিহীন মর্মে তা তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দুদকের ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি দুদক আইনজীবী হলফনামা আকারে আদালতকে অবহিত করেন। আদালত শুনানি শেষে রিটকারীর বিরুদ্ধে ১১টি মামলার তথ্য গোপন করায় আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেন এবং এ মামলায় জারি করা রুল খারিজ করে দেন।