কুয়েত সরকার জানিয়েছে- ৮ মার্চ থেকে সে দেশে প্রবেশ করতে হলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা করে যেতে হবে। এসব পরীক্ষা বাংলাদেশের কুয়েত দূতাবাসের অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে পিসিআর পরীক্ষা (পলিমিরেজ চেইন রিঅ্যাকশন) করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থিত কুয়েত দূতাবাসে স্বাস্থ্যসনদের জন্য যাওয়া হলে সেখান থেকে একটি ফর্ম দিয়ে আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুয়েত গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের। এর ফলে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কয়েকশ’ মানুষ মহাখালীর অফিসের সামনে ভিড় করেন। কিন্তু আইইডিসিআর তাদের কোনও সমাধান দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আইইডিসিআরের সনদ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। আইইডিসিআর রোগ নিয়ে গবেষণা করে, সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করে, আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন এবং রেসপন্সের কাজ করে থাকে।’
‘কোনও সার্টিফিকেট দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না’, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইইডিসিআর সনদ দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু আমাদের কাছে যেহেতু এসেছে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয় থেকে প্রবাসী কল্যাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারদের সংগঠন গামকা’র সাবেক সভাপতি ও আল রিয়াদ মেডিক্যাল চেকাপের মালিক বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুয়েতের ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সেই নির্দেশনা সম্ভবত ঢাকার কুয়েত দূতাবাসে এখনও আসে নাই। কুয়েত দূতাবাস থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু জানালেও সমস্যা হলো আমাদের কোনও মেডিক্যাল সেন্টারে তো করোনা শনাক্ত করার টেস্ট কিট- রিএজেন্ট নেই।’
জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ আমাদের এখানে একমাত্র আইইডিসিআরকেই ক্ষমতা দেওয়া আছে। আর কারও কাছে টেস্ট কিট নেই। আমাদের হাসপাতালগুলোতেও নাই, তাহলে মেডিক্যাল সেন্টারের কাছে কিভাবে থাকবে?’
এ বিষয়ে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও হেড অব চেনসারি মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি কুয়েত সরকারকে জানিয়েছি। তারা জরুরি ভিত্তিতে দুই একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’