শনিবার (৭ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এই শপথ নেন তারা।
নারী দিবস উপলক্ষে প্রথম প্রহরেই ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘আমরা এ দেশের অন্ধকার দূর করতে চাই। অন্ধকার নারীকে পেছনে ফেলছে, পিছিয়ে দিচ্ছে। আমরা সেই আঁধার দূর করবো। নারী ছাড়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মুজিববর্ষের প্রাক্কালে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নারীরা আজ এগিয়ে যাচ্ছে প্রাইমারি স্কুলে, খেলার মাঠে। বহির্বিশ্ব থেকে সম্মান বয়ে নিয়ে আসছে। নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি বিষয়ে পুরুষদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে— এইটাই হোক প্রতিজ্ঞা।’
অনুষ্ঠানে আমরাই পারি জোটের কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম বলেন, ‘নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গত চার দশক ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি। জানি এটা প্রতিষ্ঠা করা এত সহজ নয়। তোমাদেরই (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস সেটা তোমরা অবশ্যই পারবে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের আরও বলিষ্ঠ কণ্ঠে সোচ্চার হতে হবে। কারণ, পানি এখন মাথার ওপরে উঠে গেছে। মনে হচ্ছে নারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ যুদ্ধে কে জিতবে? আমরাই জিতবো।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরাই পারি’ জোটের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শতাধিক নারী শিক্ষার্থী। এর আগে সাড়ে রাত ১০টায় বিভিন্ন হল থেকে শহীদ মিনারের পাদদেশে নারী শিক্ষার্থীরা এসে জড়ো হন। পরে রাত ১২টা এক মিনিটে মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে নারীর মনের আঁধার ভাঙার শপথ নেন। শপথ পাঠ করান মাহফুজা খানম।
এতে বলা হয়, ‘আমি শপথ করছি যে, আমি নারীর বিরুদ্ধে সব নির্যাতনকে অন্যায়, অন্যায্য, অনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করি এবং করবো। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নারীর বিরুদ্ধে কোনও প্রকার সহিংসতা বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত হবো না, বা সহ্য করবো না। আমি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে কমপক্ষে ১০ জন পরিচিত ব্যক্তিকে নারী নির্যাতন বন্ধের বিষয়ে অবগত করবো। আমরাই পারি নারীর বিরুদ্ধে সব নির্যাতন বন্ধ করতে।