সভায় বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের স্পেস অনুযায়ী যে পরিমাণ ব্যক্তিগত গাড়ি চলে তা অন্যকোনও দেশে দেখা যায় না। ফুটপাতে হাঁটার চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলকে গুরুত্ব দিলে এই শহরে আগামী ২০ বছর পর গতিসীমা আরও কমে আসবে এবং দুর্ভোগ বাড়বে।
পার্কিং নীতিমালা তৈরিতে সুপারিশগুলো হলো— পার্কিং নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং সুবিধা সীমিতকরণে জোর দেওয়া; ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ এর ৫৬ নম্বর ধারা সংশোধন সাপেক্ষে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পার্কিং এর জায়গা রাখার বিধান ঐচ্ছিক করা; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রাস্তার ওপর সব ধরনের পার্কিং নিষিদ্ধ করা; ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়ের জন্য ব্যাংক লোন সীমিতকরণ এবং নতুন গাড়ি নিবন্ধনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ; নগরের ব্যস্ততম এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে যানজট ফি আদায়; পার্কিং নীতিমালায় এলাকাভিত্তিক এবং পিক-অফপিক সময় ও দিন ভেদে পার্কিং ফি আরোপ; এলাকাভেদে জমির গুরুত্বের ভিত্তিতে ইকোনোমিক ভেলুয়েশনের মাধ্যমে প্রতিটি পার্কিংয়ে ঘণ্টা প্রতি ফি নির্ধারণ; কার্যদিবসের পাকিং ফি ছুটির দিন অপেক্ষা বেশি এবং অন-স্ট্রিট পার্কিং ফি—অফ-স্ট্রিট পাকিং ফি অপেক্ষা বেশি নির্ধারণ; শহরের ব্যস্ততম স্থানে অন-স্ট্রিট পার্কিং সুবিধা না রাখা; পার্কিং অবকাঠামাতে উচ্চ ফি ও কর আরোপের বিধান রাখা; আদায়কৃত পার্কিং ফি এর অর্থ হাঁটার পরিবেশ, অযান্ত্রিক যান ও গণপরিবহনের উন্নতি সাধনে ব্যয় করা; অবৈধ অন-স্ট্রিট পার্কিং এর বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রাখা; পার্কিং এর পরিবর্তে পার্কলেট তৈরি করলে কমিউনিটির সামাজিকীকরণের চাহিদা পূরণ; প্রতিটি ভবনে পার্কিং এর ব্যবস্থা না রেখে কমিউনিটিভিত্তিক সীমিত সংখ্যক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা; ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হাঁটা, সাইকেল-অযান্ত্রিক যান ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও পার্কিং এর চাহিদা কমাতে নগরীতে ট্রানজিটভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গাউসি পিয়ারী প্রমুখ।