বিচার বিভাগের মুখ উজ্জ্বল রাখতে দল-মত নির্বিশেষে বিচারপ্রার্থীদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিদায়ী দ্বিতীয় নারী বিচারপতি জিনাত আরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বিদায় সংবর্ধনা জানায় তাকে। এ সময় আপিল বিভাগে আইনজীবীদের সামনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি জিনাত আরার শেষ কর্মদিবসে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন।
এরপর জিনাত আরা তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৮ সালে ঢাকার জেলা জজ আদালতে মুন্সেফ (সহকারী জজ) হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। নারী মুন্সেফ হওয়ায় তখন অনেকেই আমাকে দেখতে কোর্টে আসতেন। নারী হিসেবে একা একা বিচার করতে হয়েছে। সিনিয়ররা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। বাবার খুব শখ ছিল আমি হাইকোর্টের বিচারপতি হবো। কিন্তু হাইকোর্টের বিচারপতি হওয়ার তিন মাস আগেই তিনি মারা যান।
বিচারপতি জিনাত আরা আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমভাবে বিচারক ও আইনজীবীদের। দল-মত নির্বিশেষে বিচারপ্রার্থীদের সহায়তা করতে হবে, যেন আস্থার সংকট না হয়, বিচার বিভাগের মুখ উজ্জ্বল থাকে। এদিকে আইনজীবীদের লক্ষ রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, জিনাত আরা আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া দ্বিতীয় নারী বিচারপতি। তিনি বিএসসি ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে জেলা ও দায়রা জজ হন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পরে তিনি স্থায়ী বিচারপতি হন।
২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ১৪ মার্চ ছিল তার কর্মজীবনের শেষ দিন। কিন্তু তখন অবকাশকালীন ছুটি থাকবে বলে আজ (১২ মার্চ) তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। ২০১৭ সালে অবসরে যান বিচারপতি নাজমুন আরা।