করোনা শঙ্কায় বদলে গেছে স্কুলগুলোর ওয়াশ ব্লক, শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কম

১১১

দুপুর ১টা। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ওয়াশ ব্লকের কাছাকাছি যেতেই চোখে পড়লো বাড়তি তৎপরতা। সাবান রাখার জায়গায় নতুন সাবান, কেউ ওয়াশ ব্লক এলাকা ছাড়লেই পরিষ্কার করা হচ্ছে ফ্লোর। এমনকি বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তদরকি করছেন এখানে সেখানে। বেলা দুইটার দিকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসেও পাওয়া গেল একই চিত্র। হ্যান্ডওয়াশের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ থেকে শুরু করে বারান্দাও পরিষ্কার রাখার কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সরকারি বেসরকারি বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, সবার মধ্যে সচেতনতা ও সতর্কতা বেড়েছে। তবে তুলনামূলক শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম। অভিভাবকরা বলছেন, করোনা ভীতিতে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না আপাতত। তাদের দাবি, রমজানের ছুটি কমিয়ে দিয়ে এখন বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা ভেবে দেখতে হবে। আর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে বটে তবে তা অস্বাভাবিক নয়।

দেশে করোনা ভাইরাসে তিন জন আক্রান্তের পর বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকে হ্যান্ডওয়াশ ও সাবান রাখা বাধ্যতামূলক করা ছাড়াও দিনে একাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফ্লোর ও সিঁড়ি পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও চিকিৎসকরা জনসমাগমে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কারণে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

২২২

বিদ্যালয়ের সামনে অপেক্ষারত অভিভাবকরা জানান, তিনদিন আগেও এ তৎপরতা দেখা যায়নি। শুধু করোনা ভাইরাসের কারণে নয়, এভাবে সারা বছর স্বাস্থ্য সচেতনতা থাকলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ থাকবে, আর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গড়ে উঠবে স্বাস্থ্য সচেতনতা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক অভিভাবক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও করোনা ঝুঁকি থেকে শিশুরা কীভাবে রক্ষা পাবে তা বুঝতে পারছি না। স্কুল থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চলছে শিক্ষার্থীরা। তবে অনেকেই তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্কুল যদি বন্ধ না হয় তাহলে কতদিন বাসায় বসিয়ে রাখবো সন্তানকে এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে রোজার মাসের ছুটি কমিয়ে হলেও এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হোক। ’

৩৩৩

অভিভাবক অর্পণা ভৌমিক বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে স্কুলে এসেছি।  স্কুলে না পাঠালে ছেলেমেয়েরা তো কোর্স শেষ করতে পারবে না। আপাতত ছুটি দিয়ে পরে ছুটির দিনগুলোতে ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের করোনা ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখা উচিত।’

জানতে চাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমরা জোর দিয়েছি। মাউশির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ওয়াশ ব্লক পরিষ্কার করছি। মেঝেসহ সিঁড়ি পরিষ্কার করাচ্ছি একাধিকবার।’ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে অস্বাভাবিকভাবে কমেনি।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যে নির্দেশ দেবে তা বাস্তবায়ন করবো।’

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতা। এই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ওয়াশ ব্লকে কর্তৃপক্ষের নজর কম থাকলেও এখন নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। ওয়াশ ব্লকে রাখা হচ্ছে সাবানসহ হ্যান্ডওয়াশ।’

৪৪৪

ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলে অভিভাবক সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিষ্কার রাখলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। গত মঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে দেখি, আমার ছেলের সঙ্গে যারা পড়তো তাদের অনেকেই নেই। তাই আমার ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছি না। প্রায় অর্ধেক ছাত্রছাত্রী আসছে না স্কুলে।’ এভাবে স্কুল না চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সানজিদা।

৫৫৫