সাংবাদিক আরিফকে নির্যাতন-জেল: দোষীদের শাস্তির দাবি সুজনের

sujon-logo

কুড়িগ্রামে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে কারাদণ্ড প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থার সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও  সম্পাদক ড.বদিউল আলম  মজুমদার এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে জানতে পেরে সুজন এ বিবৃতি দেয়।

সুজনের কর্মকর্তা নেছার আমিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের এই দুই প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এভাবে মোবাইল কোর্টে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়ার পুরো ঘটনাটি বেআইনি। কারণ, দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। তাই রাতের বেলা কোনও নাগরিককে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা অবৈধ। নির্যাতনের শিকার হওয়া সাংবাদিক যদি সন্দেহের তালিকায় থাকেন, তাহলে তাকে নজরদারিতে রাখা যেতো কিংবা ‘অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায়’ পুলিশ অভিযান চালাতে পারতো।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মোবাইল কোর্ট আইনের এমন যথেচ্ছ অপপ্রয়োগ আইনের শাসনের সাংবিধানিক অঙ্গীকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর পরিপন্থী। এই ধরনের ঘটনা প্রশাসন তথা সরকারের ওপর জনগণের আস্থা হ্রাস করে।’

‘তাই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান এম হাফিজউদ্দিন খান ও  সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

বিৃবতিতে সাংবাদিক মাহবুব আলম এবং দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের এবং সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুজনের কর্তারা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে  জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে কারাগার থেকে মুক্তি পান সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।