সংসদ টিভিতে প্রচার হবে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকরোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি কার্যক্রম প্রচার করা হবে। রবিবার (২২ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার শ্রেণি কার্যক্রম প্রচার করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন ৭টি করে সপ্তাহে ৩৫টি ক্লাস প্রচারিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই টেলিভিশনে নিজ নিজ বিষয়ের ওপর অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠলাভ করতে পারবে।

মাউশি’র পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। বাংলাদেশেও মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে মারাও গেছেন। এ কারণে যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

মাউশির এই পরিচালক আরও বলেন, ‘দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করেই ছাত্রছাত্রীরা যাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের এই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাউশি। শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), মোবাইল ফোন কোম্পানি রবি এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডিওতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের পাঠদান রেকর্ডিং শুরু হয়েছে।

করোনার কারণে গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঘরে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত ১৮ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাসায় অবস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ ছুটিকে সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি অনেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণেও যাচ্ছেন সপরিবারে। তাই বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, সর্বশেষ রবিবার (২৩ মার্চ) এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, এমনকি প্রবেশপত্র বিতরণও স্থগিত করা হয়। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।