করোনার ক্ষতি কমাতে কর্মকর্তাদের বেতনের ১০ শতাংশ কাটবে বিমান

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকরোনাভাইরাসের প্রভাবে একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। বিদেশি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশগামী ফ্লাইট নেই বলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়েও নেই কোনও কার্যক্রম। আয়হীন এ সময়ে খরচ কমাতে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের কর্মীদের ওভারটাইম সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বেরই বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো। একই পরিস্থিতি বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোরও। বিমানের ১৮টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও এখন মাত্র দুটি রুটে ফ্লাইট চালু আছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতরেও ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৬টি রুটের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শুধু সিলেট রুটে কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন সময় মতো দেওয়া নিয়েই চিন্তিত বিমান কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করেছেন বিমানের নির্বাহী পরিচালকরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিমানের গ্রুপ ছয় থেকে ওপরের কর্মকর্তা, পাইলট, কেবিন ক্রুদের মার্চ মাস থেকে মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে কাটা হবে। সব কর্মীর মার্চ মাস থেকে ওভারটাইম বন্ধ। কেবিন ক্রুরা প্রকৃত উড্ডয়ন ঘণ্টার ভিত্তিতে বেতন পাবেন। আগে একজন ক্রু সর্বনিম্ন ৭০ ঘণ্টার জন্য এক হাজার ৫০০ ডলারের সমপরিমাণ টাকা পেতেন। কোনও ক্রু এক মাসে ৭০ ঘণ্টা ডিউটি না করলেও একই ভাতা পেতেন। এখন সেই সুবিধা থাকছে না। প্রতি ঘণ্টায় ২১ দশমিক ৪৩ মার্কিন ডলার হারে ভাতা দেওয়া হবে কেবিন ক্রুদের। নির্বাহী পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও সমমর্যাদার কর্মকর্তারা বর্তমানে যে হারে আপ্যায়ন ভাতা পেতেন, তার ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্চ মাস থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের অনেক এয়ারলাইন্স বন্ধের পথে। কোনও আয় তো নেই, বরং উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ করতে হবে। এরপর অফিস ও কর্মীদের বেতনের খরচ আছেই। তারপরও আমরা বেতন দিয়ে যাচ্ছি। সংকট মোকাবিলায় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’