পৌর নির্বাচনে পক্ষপাত: দুই ওসি প্রত্যাহার

দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে পৌরসভা নির্বাচনি এলাকার পুলিশের দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে একজনকে প্রত্যাহারের জন্য কমিশন থেকে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যজনের চিঠি যেকোনও সময় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা ছাড়াও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ কমিশন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেলে, ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনে হাইকোর্টের নির্দেশে বহাল হওয়া বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী সারওয়ারুল আবেদীন খোকনের উচ্চ আদালতের নির্দেশে বহাল হওয়া প্রার্থিতার আদেশনামা জমা প্রদানে অসহযোগিতা করা এবং একটি বিশেষ দলের একজন মেয়র প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার জন্য ওই অফিসার ইনচার্জ বিধিবহির্ভূত আচরণ ও ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে নির্বাচন কমিশন অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।

এদিকে পৌরসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমানকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী বুধবার নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়, ওসি পৌরসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম শফি আহমদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাই তিন মেয়র প্রার্থী পৌরসভা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মতিয়ার রহমানকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন। কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। এর বাইরে অন্য কাউকে প্রত্যাহার বা বদলির কোনও সিদ্ধান্ত কমিশনে এখনও হয়নি।

এর আগে দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এলে সংশ্লিষ্ট বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে আমরা শক্ত অবস্থানে আছি।

এদিকে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা ছাড়াও হবিগঞ্জ সদর থানা ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নরসিংদীর মাধবদী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার অভিযোগ কমিশন খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

এর আগে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কলারোয়া পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছে।

এদিকে, নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোস্তফা কামালকে অস্ত্রের মুখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির এই প্রার্থী সোমবার নির্বাচন কমিশনে এ অভিযোগ করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন কমিশনের উপ-সচিব মহসিনুল হক।  প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নির্বাচন কমিশনার ‍শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

 

/এফএ/