দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলায় এডিটরস গিল্ডের গভীর উদ্বেগ

এডিটরস গিল্ড

চাল ও ত্রাণ চুরির খবর প্রকাশ করায় দুটি জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এডিটরস গিল্ড। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ জানান এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ-এর সভাপতি মোজাম্মেল বাবু। 

চাল ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম ভাসানী নিজের ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগ আনেন। এ  অভিযোগ তুলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও এডিটরস গিল্ডের সাবেক সভাপতি তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দুটি করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলা সাংবাদিক সমাজের কাছে কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এডিটরস গিল্ড মনে করে, সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের হয়রানি করা বাক-স্বাধীনতা তথা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

সাংবাদিক সমাজ একদিকে করোনাভাইরাসের কারণে এই মহা দুর্যোগের সময় নিরলস পরিশ্রম করে জনগণকে তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরছে। একইসঙ্গে কোথাও কোনও অনিয়ম ও অসঙ্গতি থাকলে সেটাও মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের সামনে আনা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার

এডিটরস গিল্ড মনে করে, এ ধরনের মামলার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের দ্বন্দ্ব তৈরি করার অপচেষ্টা করছে একটি মহল। এই মহলটি বাক-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ব্যাহত করার চক্রান্তে লিপ্ত বলে মনে করে এডিটরস গিল্ড।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব, এই সম্পাদকদ্বয়কে হয়রানি না করার জন্য। এডিটরস গিল্ড সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি করছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করে প্রতিকার চাইতে পারতেন। আমরা যেকোনও হয়রানির নিন্দা জানাই এবং আশাকরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।