করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্টেই আগ্রহ আইনজীবীদের

আদালত

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সব আদালত। তবে এ সময়ে মানুষের নাগরিক অধিকার, কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। তাই প্রয়োজন দেখা দিয়েছে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার। আর সেক্ষেত্রে করোনা বিবেচনায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের কয়েকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তাই এ বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারিও করেছিল কোর্ট প্রশাসন। কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে।

তবে সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলেও করোনার ঝুঁকি থেকে যায়, যা অনুধাবন করতে পেরে আইনজীবীদের একাংশ কোর্ট খোলার বিপক্ষে যুক্তি দেখান। কোর্ট খোলার পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীদের এসব মতামত প্রধান বিচারপতির দফতর পর্যন্ত পৌঁছায়। ফের আইনজীবীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে কোর্ট বন্ধ করতে প্রধান বিচারপতিকে লিখিত আবেদন জানান।

পাশাপাশি কয়েকটি আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালু করতেও অনুরোধ জানান আইনজীবীরা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত একটি কোর্ট অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে সর্বপ্রথম প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম ও সংগঠনের পরিচালক অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এরপর বিভিন্নভাবে আরও বেশকিছু আইনজীবী অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংবিধানে দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই স্বল্প পরিসরে হলেও কোর্ট খোলা রাখা জরুরি। তবে করোনা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। সেজন্য করোনাকালীন সময়ের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা হওয়া দরকার। ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ধরনের ব্যবস্থাপনা রয়েছে।’

এদিকে সীমিত পরিসরে কোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন। ওই সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান—কমিটি মনে করে, প্রচলিত পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনা করা হলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিজ্ঞ আইনজীবীরা ছাড়াও বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই দৈহিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে জরুরি বিষয়গুলো শুনানির সহজগম্য ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করেছে।

ভার্চুয়াল কোর্টের বিষয়টি সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল।