ফুলে ফুলে সেজেছে ‘লকডাউন রাজধানী’




সংসদ ভবন এলাকার লেক রোডের কৃষ্ণচূড়া গাছে যেন আগুন লেগেছেকরোনা সংক্রমণ রোধে এখন চলছে লকডাউন অবস্থা। খুব জরুরি কাজ ছাড়া রাস্তায় নামছেন না কেউ। করোনার আতঙ্কে নাগরিকরা প্রায় ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষ না হয় ঘরবন্দি রয়েছে, তবে প্রকৃতিতো মুক্ত ও উদার। তাইতো লকডাউন রাজধানী সেজেছে নানা রঙ ও রূপে। করোনার মধ্যেই প্রায় দূষণহীন নগরীর আনাচে-কানাচে উঁকি মারছে গ্রীষ্মের নানা রঙের ফুল। একই সঙ্গে গাছগাছালিতে নানা জাতের পাখিদের কিচির মিচিরও প্রকৃতিতে প্রাণ ফেরার কথাই জানান দিচ্ছে। প্রকৃতি যেন বলছে, ছুঁয়ে যাও আমায়।

বিশ্বরোড এলাকায় সড়কের ধারে শোভা বাড়াচ্ছে নয়নতারা রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনে রাস্তা এবং পার্কগুলোতে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের ফুল গাছ। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ফুল ধরে এসব গাছে। মানুষ মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করে ফুলের সৌন্দর্য। বরাবরের মতো এ ঋতুতেও ফুল গাছগুলো তার সৌন্দর্য প্রকাশ করেছে, কিন্তু সেই সৌন্দর্য দেখবার যেন কেউ নেই। একটা সময় বিভিন্ন মৌসুমের ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে মানুষের যে ভিড় থাকতো বিভিন্ন স্পটে, তার বিন্দুমাত্র নেই এখন। মানুষজন বলছে, বেঁচে থাকলে আবারও দেখা যাবে ফুলের সৌন্দর্য, আপাতত ঘরে থাকার প্রয়োজন।

যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় ফুটেছে অপরাজিতা সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি লেক, সংসদ ভবনের পেছনের লেক রোড, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট, বনানী, কুড়িল বিশ্বরোড, বারিধারা আবাসিক এলাকা, হাতিরঝিল এবং খিলগাঁও ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি জায়গাতেই ফুলের সমারোহ। গাছে গাছে থোকা থোকা ফুলে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে।

বিজয়সরণি এলাকায় শোভা বাড়াচ্ছে রাধাচূড়া ধানমন্ডি লেকের পার্ক একেবারেই জনশূন্য। কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই। কিন্তু, বাগানবিলাস মাথা উঁচিয়ে আছে সেখানে। সংসদ ভবনের পেছনের লেক রোডে তো লেগেছে আগুন। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেক কৃষ্ণচূড়া গাছ।

বিশ্বরোড এলাকার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে ক্যাকটাস প্রতিটি গাছের মাথায় যেন লাল রঙ ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতি। বিজয় সরণি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে যেতে হাতের বাম পাশের রাস্তায় আপনাকে তো কাঁচা হলুদের রঙে অভ্যর্থনা জানাবে রাধাচূড়া ফুল।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রেকর্ড অফিস গেটে শোভা বাড়িয়েছে কলাবতি আর তা পার করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রেকর্ড অফিস গেট, জাহাঙ্গীর গেটের পাশে আটকে যাবে আপনার চোখ। মনে হবে সেখানে যেন লাল রঙ ছিটিয়ে রেখেছে কেউ। আসলে সেখানে রয়েছে এক ঝাঁক কলাবতি ও মোরগফুল।

জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় ফুটেছে মোরগফুল মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নেমে বনানী ফ্লাইওভার পর্যন্ত যেতেও রাস্তার মাঝের আইল্যান্ডে আপনার চোখে পড়বে সাদা রঙের ফুটে থাকা কাঠমালতি ফুল। আর বনানী ফ্লাইওভার থেকে নামার পর কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত তো মনে হবে আপনি ফুলের স্বর্গে চলে এসেছেন।

বিশ্বরোড এলাকায় সড়কের পাশে কাঠগোলাপ এখানে কাঠগোলাপ, অপরাজিতা, ক্যাকটাস, নয়নতারা, ছত্রা, কন্টকমুকুটসহ নানা ধরনের ফুল আপনাকে স্বাগত জানাবে।

হাতিরঝিল এলাকায় গাছে দোল খাচ্ছে সোনালুবারিধারা আবাসিক এলাকায় ঢুকলেও আপনাকে স্বাগত জানাবে বিভিন্ন ধরনের ফুল। কারণ, এই এলাকার সড়ক বলেন আর বাড়ির বাইরের সামান্য খোলা জায়গাই বলেন, কোনও জায়গাতেই বাদ নেই ফুল গাছ।

হাতিরঝিলে আসবেন আর জারুলে মুগ্ধ হবেন না, তা কি হয় হাতিরঝিলে প্রবেশ করলে সোনালু আর জারুল ফুলে বিমোহিত হবেন। কিছুদূর পর পরই বেগুনি রঙের জারুল ফুল বাতাসে দোল দিয়ে মন রাঙাবে নিশ্চিত। হয়তো করোনাকাল পার হলে নগরবাসী আবারও দেখতে পাবেন ফুলের এই বাহার।

ধানমন্ডি লেকের বাগান বিলাস

 

কুড়িল ফ্লাইওভার এলাকায় ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ায় মুগ্ধ হবেন যে কেউ

 

ছবি: হাসনাত নাঈম