বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ যাত্রীবাহী বাসগুলো আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অন্য পরিবহণের বাস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিলেও একমাত্র ইতিহাস পরিবহণ ‘ফুল ভাড়া’ নেয়। উল্টো বাস স্টাফরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। অথচ যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হাফ ভাড়া’ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিহাস পরিবহণের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের অধিকার পরিপন্থী।
তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাসগুলো আটক করেছি। বাস কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হাফ ভাড়া’ ও কাউন্টার স্থাপনের ঘোষণা দিলে আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির ছত্রছায়ায় ইতিহাস পরিবহণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচল করে। জনি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘ফুল ভাড়া’ রাখার নিদের্শ দেয়।
আশুলিয়া থানার এসআই মলয় ভৌমিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ইতিহাস পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে ডাকা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল বলেন, ইতিহাস পরিবহণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা বাসগুলো আটক করেছে। তবে এখনও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাস কর্তৃপক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে।
ইতিহাস পরিবহণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিপন বলেন, আমরা বাস স্টাফদেরকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হাফ ভাড়া’ নেওয়ার জন্য বলেছি। তারপরও কিছু কিছু স্টাফ হয়তো এই নির্দেশনা অমান্য করেছে।
উল্লেখ্য, প্রায় একবছর আগে ৫০টি বাস নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচল শুরু করে ইতিহাস পরিবহণ। অন্যান্য পরিবহণের বাস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হাফ ভাড়া’ নিলেও মিরপুর ১৪ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচলকারী ইতিহাস পরিবহণ ‘ফুল ভাড়া’ নিয়ে আসছিল। এ নিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছোটখাট অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত।
/এএইচ/