অপরাধ করে সীমান্ত সংলগ্ন বা জোটভুক্ত কোনও দেশে অপরাধী পালিয়ে গেলে যাতে তাকে নিজ দেশে বিচারের মুখোমুখি করা যায় তার জন্যই এ চুক্তি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন এ অঞ্চলের দেশগুলোর সীমান্ত অতিক্রম করা কঠিন নয় এবং এর ফলে অনেক অপরাধীই অন্য দেশে পালিয়ে যায়। আবার অনেকে একাধিক দেশে একইসঙ্গে অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকে।
ভারতের উদ্যোগে এ চুক্তির আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দিল্লিতে এ বিষয়ে একটি বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও থাইল্যান্ডের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে, কিন্তু বিমসটেক জোটের অন্য চারটি দেশের সঙ্গে নেই।
বিসমটেকের অন্য চারটি দেশ হচ্ছে ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল ও শ্রীলংকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাটি বলেন প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে এ চুক্তি করা সময়সাপেক্ষ। একটি জোটের মাধ্যমে এ ধরনের চুক্তি থাকলে সেটি প্রতিটি দেশের জন্য বলবৎ হয়ে যায়।
এ উদ্যোগে বাংলাদেশের নীতিগত কোনও বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও এ সাতটি দেশের কোনও নাগরিক অন্য দেশে সাজাপ্রাপ্ত হলে তারা যাতে নিজদেশে দেশে সাজা ভোগ করতে পারে এ লক্ষ্যে অন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনা চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে এ জোটের সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিজদেশে পুনর্বাসন করা।
বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি শুধু ভারতের সঙ্গে রয়েছে।
বন্দি বিনিময় চুক্তির খসড়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একে অপরকে বন্দি বিনিময়ের অনুরোধ করলে কার কী দায়িত্ব হবে, কোন ধরনের অপরাধে বন্দি বিনিময় করা যাবে, কী করলে বন্দি বিনিময় করা যাবে না ইত্যাদি ব্যাখ্যা করা আছে।
আগামী জানুয়ারিতে বিমসটেকের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবার কথা আছে এবং সেখানে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/এফএ/