রেড জোন থেকেও বের হওয়ার চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে পুলিশ

পূর্ব রাজাবাজার রেড জোনে কঠোর অবস্থানে পুলিশকরোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয় রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকা। গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে আজ পাঁচ দিনের মতো লকডাউন চলছে ওই এলাকায়। লকডাউনের মধ্যে থেকেও প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অনেকের মধ্যে বের হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ।  

আজ রবিবার (১৪ জুন) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। এ দিন লকডাউন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে অফিসসহ নানা কাজে অনেকেই বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাংবাদিক, ডাক্তার ও নার্স ছাড়া কাউকেই বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনের কথা বলে দুই-একজন বের হচ্ছেন। অনেককে ওই এলাকার মানুষের জন্য বাইরে থেকে বাজার করে দিতে দেখা গেছে। এদিকে, জরুরি প্রবেশপথ ছাড়া অন্য রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়ে পুলিশকে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

পূর্ব রাজাবাজার রেড জোনে কঠোর অবস্থানে পুলিশসরেজমিনে আরও দেখা যায়, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি সবজির ভ্যান ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। ভ্যানগুলো গলিতে গলিতে ঘুরছে, আর এলাকাবাসী প্রয়োজনীয় পণ্য সেখান থেকে কিনছেন।

জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে বের হওয়াদের একজন হোসেন সোহান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ওষুধ কেনার জন্য বের হয়েছি। অনেক রিকোয়েস্ট করে বের হতে হয়েছে। এছাড়া বাসায় নগদ টাকা নেই। যদি আমাদের কেউ পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে বলেন—আপনারা বাসায় থাকেন, থাকবো। কিন্তু না খেয়ে মরতে পারবো না।'

এদিকে, আইবিএ হোস্টেলের পাশের রাস্তার সঙ্গে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের একটি শাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মতে আজ শাখাটি খোলা আছে। কিন্তু সেখানে তাদের দুই কর্মকর্তা অনুপস্থিত। তারা দু'জনই থাকেন পূর্ব রাজাবাজার এলাকায়। পুলিশকে অনুরোধ করে ওই দুই জন কর্মকর্তাকে নিতে আসা হয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। কিন্তু পুলিশ নাছোড়বান্দা, কোনোভাবেই তাদের বের হতে দেবে না।

পূর্ব রাজাবাজার রেড জোনে কঠোর অবস্থানে পুলিশশাখাটির ম্যানেজার মো. শাহিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমার কর্মীদের কোনোভাবেই বের হতে দিচ্ছে না। এদিকে, লোকজন এসে ব্যাংকের ভেতর চিল্লাচিল্লি করছে, কর্মী নেই বলে। এটাও একটা জরুরি সেবা। তাহলে কেন তাদের বের হতে দেবে না। যদি বের হতেই না দেবে, তবে ব্যাংক বন্ধ রাখতে বলতো। এভাবে তো চলতে পারে না।'

লকডাউন এলাকার জরুরি প্রবেশপথে কর্তব্যরত শেরেবাংলা নগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর বারিক (পিপিএম) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সকাল থেকে অনেকেই বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা সংবাদকর্মী, ডাক্তার ও নার্স ছাড়া কাউকেই বের হতে দিইনি। কারণ, আমাদের কাছে এর বাইরে কোনও নির্দেশনা নেই। তবে, উপযুক্ত কারণ মনে হওয়ায় দুই-একজনকে বের হতে দেওয়া হয়েছে। যে ডাক্তার দেখাতে যাবে তাদের যেতে দেওয়া হয়েছে। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।