রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই নারীর লাশ উদ্ধার

 

লাশ

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় বনানী ও ভাটারা এলাকা থেকে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— পোশাক শ্রমিক আরজিনা বেগম (৩৫) ও প্রাইভেট কোম্পানির কর্মী হাসনা হেনা (২২)। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ তাদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতারের মর্গে পাঠিয়েছে।

বনানী থানার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস ছামাদ জানান, মহাখালীর স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার ১১ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে রবিবার (১৪ জুন) সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় আরজিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতে খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ঘুমাতে গিয়েছিলেন। সকালে উঠে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বামী মুন্না চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। আরজিনার বাবার নাম শাজাহান মিয়া। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অভাবের সংসার ও পারিবারিক কলহে আরজিনা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।

এদিকে, ভাটারা থানার পুলিশ শনিবার (১৩ জুন) রাতে এইচআরসি হাসপাতাল থেকে হাসনা হেনা নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। ওই তরুণী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে জানিয়েছে পুলিশ। হাসনা হেনার গ্রামের বাড়ি যশোরের কোতোয়ালি থানার আরিফপুর গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে একটি মেয়ের সঙ্গে সাবলেট বাসায় থাকতেন তিনি।

হাসনা হেনার বাবা হাফিজুর রহমান জানান, গত শুক্রবার হাসনা হেনা কীটনাশক জাতীয় কিছু খেয়ে অসুস্থ হলে তাকে এইচআরসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার রাতে সে মারা যায়। আমরা হাসপাতালে এসে তার মৃতদেহ পাই। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাফিজুর রহমান আরও  জানান, হাসনা হেনা একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতো। করোনার কারণে ওই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সে খুব জেদি স্বভাবের ছিল। কোনও কিছু হলেই সে রাগ করে আত্মহত্যা করতে যেতো। এর আগেও একবার সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এছাড়া, অফিস বন্ধ থাকায় হতাশায় সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানান তিনি। মেয়ের মৃত্যু নিয়ে কারও প্রতি তার কোনও অভিযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন।