স্টেপস জানায়, মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, করোনা মোকাবিলার জন্য ঘোষিত সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের পর থেকে ৮০ শতাংশ গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাদের চলমান ব্যবসা বা উদ্যোগ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। নানা সংকট মোকাবিলা করে বাকি ২০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী তাদের উদ্যোগ বা ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, লকডাউনকালীন সময়ে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করার জন্য তারা তাদের ব্যবসার মূলধন খরচ করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলেও মূলধনের অভাবে তাদের ব্যবসা বা উদ্যোগগুলো পরিচালনা করা কঠিন হবে।
স্টেপস জানায়, জুন থেকে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হলেও গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের নানান প্রতিবন্ধকতা ও নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের এতদিনের শ্রমে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ নারী উদ্যোগের এই ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হলে নারীর সামগ্রিক অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে, এসময়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আয় না থাকার কারণে নারী উদ্যোক্তাদের ওপর পুরো সংসারের দায় এসে পড়েছে। অন্যদিকে করোনাকালে স্থানীয় পর্যায়ের মার্কেট বন্ধ থাকাসহ মানুষের সীমিত চলাচলের কারণে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় তাদের সংকটে পড়তে হয়েছে। এর ফলে একদিকে কমেছে তাদের নিজেদের আয়, অন্যদিকে তাদের উৎপাদন সহযোগী গ্রামীণ অসহায় নারীদের মজুরি প্রদানেও ব্যর্থ হয়েছেন।
স্টেপসের প্রতিবেদনে পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রণোদনার অংশ হিসেবে দেশে গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের সরকারিভাবে সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে পুনরায় বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং প্রণোদনার অংশ হিসেবে গ্রামীণ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের এককালীন সহায়তা প্রদান করতে হবে।