এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্যারাডাইস ক্যাবল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্যারাডাইজ ক্যাবল লি. কারখানাটি গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বৈদ্যুতিক তার উৎপাদন করে আসছে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রফতানি করার ক্ষেত্রেও এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এমনকি নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত শিল্প সমূহের মধ্যে সর্বাধিক ভ্যাট প্রদান করে এসেছে। গত প্রায় এক বছর ধরে কারখানার মালিকপক্ষ উৎপদিত পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করছে না। এমনকি তারা বিভিন্ন ব্যাংক হতে ৭০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেয়া সত্ত্বেও এই লাভজনক কারখানাটির উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে এই কারখানায় স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে বর্তমানে শ্রমিকরা বিনা বেতনে মানবেতর জীবন যাপন করছে। মালিকপক্ষ পরিকল্পিত ভাবে সময়ক্ষেপন করে করে আজ ১৩ মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করছে না। এমনকি পূর্বতন তিন বছরে শ্রমিকদের করা ওভারটাইম এর ভাতা বকেয়া রেখেছে। বিগত তিন বছরের অর্জিত ছুটির টাকা, ঈদ বোনাসসহ অন্যান্য পাওনা বকেয়া রেখেছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়েও মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে বাধ্য করতে পারেনি। এমনকি এবছর ২১ এপ্রিল শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মহামারীকালীন সময়ে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার জন্য দুই কিস্তিতে দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার চুক্তি করলেও মালিক পক্ষ পরে আর তাদের কথা রাখেননি। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, তিনি যেন প্যারাডাইস ক্যাবল কারখানার শ্রমিকদের ১৩ মাসের বকেয়া মজুরির দ্রুত প্রদানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন।
এসময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শ্রমিকনেতা দুলাল সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।