এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ শুক্রবার বিকেলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযুক্তদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা কোনও নির্দেশনা পাননি।
হাসপাতালে মাহবুবের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাবাজারে অবস্থিত ‘মেঘনা পরিবহন’ নামে লেগুনা শ্রমিকদের সঙ্গে রাজধানীর ফরিদাবাদ এলাকায় তার তর্ক হয়। এক পর্যায়ে লেগুনায় একা পেয়ে সেটির চালক ও অন্য আরও তিন শ্রমিক তাকে মারধর করে। ছিনতাই করা হয় তার ল্যাপটপ, মোবাইল ও টিউশনির বেতনের ১০ হাজার টাকা। এরপর মাহবুবকে শ্রমিকরা অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়।
গেন্ডারিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, সুমন ও সুজন নামে দুজনের নাম তারা জানতে পেরেছেন। তবে ঘটনাটি শ্যামপুর থানা এলাকায় ঘটায় তারা শ্যামপুর থানায় জানিয়েছেন।
শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ‘গ্রেফতারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও নির্দেশনা আমরা পাইনি।’
মেঘনা পরিবহনের মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম জানান, ‘শুনেছি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের ড্রাইভারের একটু ঝামেলা হয়েছে। এটা বিশেষ কিছু নয়। জবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলামের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাদের ঠিকমতো গাড়ি চালাতে বলেছেন, আর বাকিটা তিনি দেখবেন।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক বন্ধ করে লেগুনা স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এ স্ট্যান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা নেয় বলেও জানা গেছে। আবার প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা এসব লেগুনার মালিক।
এ ব্যাপারে জানতে জবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জবি শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিশেষ সুবিধা নেয় বলে যে অভিযোগ ওঠেছে সে সর্ম্পকে আমার জানা নেই।’
/আরএআর/এনএস/এফএ/