দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের ভুবন বদলাবে

IMG_20200718_123236সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে হিজড়া ও প্রতিবন্ধীরাও যুক্ত হতে পারবেন সমাজের মূলধারায়। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি ) ট্রাস্ট ও ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিং বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গবেষণা চালানো হয়েছে। এর ভিত্তিতে লেখা বৈচিত্র্যময় সমাজ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়েছে। 

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে অনলাইনে ওই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বলা হয়, সংবিধানে সবার সমান অধিকার বাস্তবায়নের নির্দেশনা মানতে হবে সরকারের। 

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের সফলতার গল্প শোনান কেউ কেউ। কীভাবে প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের হয়েও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তাও জানান।

অন্যনা বনিক বলেন, তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বিউটি পার্লারে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। সাধারণত হিজড়াদের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষে করতে দেখা যায়। সেখান থেকে এসব হিজড়াদের বিউটি পার্লারে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। সাদা কালো হিজড়া সমিতির এই সভা নেত্রী।

আয়োজকরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি মানুষের সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবচিত্র অনেকটাই ভিন্ন। জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীরাও প্রায় সবক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন। আইনি স্বীকৃতি মিললে সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সঙ্গত কারণে শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করে অগ্রসর হতে হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নগর গবেষণা কেন্দ্রর সাধারণ সম্পাদক স্থপতি সালমা এ শাফি বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়াতে অনেক খারাপ কাজ হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমাদের এসব কথা বলতে হচ্ছে। এটা অনেক দুঃখজনক। তিনি মনে করেন এভাবে চললে সমাজ এগুবে না। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হলে মানবিক উন্নয়ন হচ্ছে না। আমরা এদের জন্য আসলে কিছু করতে পারি না।’

ডব্লিউবিবি  ট্রাস্টের গাউস পিয়ারি বলেন, ‘কীভাবে আমরা এসব মানুষদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মানুষের একক চিন্তার বদল করে সবাইকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এতে সমাজের মৌলিক পরিবর্তন আসবে। এজন্য সবার আগে দরকার পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি বদল। এসব সীমাবদ্ধতা একজন মানুষের জন্মগত।’

প্রকাশানা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডব্লিউবিবি  ট্রাস্টের জিয়াউর রহমান লিটু।