রেণু হত্যা মামলা: শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন

তাছলিমা বেগম রেণুগত বছরের ২০ জুলাই সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাছলিমা বেগম রেণু। এরপর ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু। মামলাটি দায়েরের এক বছরেও তদন্ত শেষ করতে পারেননি মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা। দীর্ঘ এক বছরের তদন্তকাজে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই বলে বাদীর অভিযোগ। এজন্য এই হত্যার বিচার নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অগ্রগতি ভালো। শিগগিরই আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাছলিমা বেগম রেণু। এরপর ওই স্কুলের সামনে ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন। এরপরেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেন মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মামলাটি প্রায় পাঁচ মাস তদন্ত করেন। এরপরেই এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ডিবি পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হক।

মামলার বিষয়ে বাদী সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘এক বছর হয়ে গেছে। তদন্ত শেষ হলো না। বিচার কীভাবে পাবো? প্রথম খুব তোড়জোড় ছিল। মনে হয়েছিল তিন মাসেই তদন্ত ও বিচার সবই হয়ে যাবে। এখন তো মনে হচ্ছে বিচারই পাওয়া যাবে না। ডিবি প্রায় সাত মাস ধরে তদন্ত করছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতিই দেখতে পারছি না। কবে তদন্ত শেষ হবে, কবে চার্জশিট দেবে, আর কবে বিচার পাবো?’

তিনি আরও বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) বলেন, “আমি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেছি। মারধরে ৪০ থেকে ৫০ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ থেকে ২২ জন সরাসরি জড়িত। সেখানে এ পর্যন্ত ১৪ জন গ্রেফতার হয়েছে।” তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেছেন, মামলা দায়েরের সময় কিছু ত্রুটি ছিল, তারা তা সংশোধন করছেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করছেন এবং নতুন কিছু আসামি ধরার চেষ্টা করছেন।’

মামলার তদন্তে কতটুকু অগ্রগতি হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হক বলেন, ‘মামলার অগ্রগতি বেশ ভালো। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। অনেক কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।’

এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১৪ আসামির মধ্যে তিন জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় পাঁচ জন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিরা হলেন–রিয়া বেগম, বাচ্চু মিয়া, শাহীন, মুরাদ ও বাপ্পি।

মামলার গ্রেফতার আসামিরা হলেন–মো. শাহীন (৩১), মো. বাচ্চু মিয়া (২৮),  মো. বাপ্পি (২১), ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা (২০), মুরাদ মিয়া (২২), মো. সোহেল রানা (৩০), মো. বিল্লাল (২৮), মো. আসাদুল ইসলাম (২২), মো. রাজু (২৩), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. কামাল হোসেন (৪০), মো. ওয়াসিম (১৪), রিয়া বেগম ময়না (২৭) ও মো. জাফর হোসেন (২০)।  তাদের মধ্যে ওয়াসিম, হৃদয় ও রিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।