রবিবার (১৯ জুলাই) র্যাবের অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে জানান, এই হাসপাতালে করোনার কোনও টেস্ট হয় না। তবে র্যাব হাসপাতালের প্যাডে রিপোর্ট পায়। এই রিপোর্ট কীভাবে করা হয়েছে জানতে চাইলে র্যাবের জেরার মুখে আবুল হাসনাত কোনও উত্তর দিতে পারেনি। পাশ থেকে তখন অপর এক স্টাফ কিট দিয়ে পরীক্ষার কথা স্বীকার করে। এই কিট কোথা থেকে কীভাবে পেয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তীতে সহকারী পরিচালক আবুল হাসনাতকে র্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করে। আবুল হাসনাত পরবর্তীতে র্যাবের জেরার মুখে গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডির কিটের কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্লাজমা দেওয়ার জন্য কিছু অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়েছে। এগুলো গণস্বাস্থ্য থেকে আনা হয়।’ তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনও অনুমোদন ছিল না তা এই কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেন। এরপর তাকে র্যাব গ্রেফতার করে।
অপরদিকে, গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতেই এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গণস্বাস্থ্য। গণস্বাস্থ্যের ‘জিআর কোভিড-১৯ র্যাপিড ডট ব্লট’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, কোনও প্রকার কিট পরীক্ষার সঙ্গে গণস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নেই।
র্যাব সাহাবউদ্দিন হাসপাতাল থেকে এক বক্স অ্যান্টিবডি কিট উদ্ধার করেছে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা উদ্ধারকৃত কিট যাচাই বাছাই করেছি। এগুলো গণস্বাস্থ্যের নয়। প্রাথমিকভাবে এই আসামিরা হয়তো দায় এড়ানোর জন্য একথা বলার চেষ্টা করেছে।’
সোমবার দুপুরে ভুয়া রিপোর্ট ও র্যাপিড টেস্ট কিটের বিষয়ে সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাফর উল্ল্যাহ বলেন, ‘হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে কোনও অনিয়ম হয়নি বলে আমি নিশ্চিত। আমাদের প্রতিটি রিপোর্টে ল্যাব নম্বর দেওয়া থাকে। যেসব রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোতে কোনও ল্যাব নম্বর ছিল না। আমাদের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা হলে ল্যাব নম্বর থাকতো। এর মানে আমরা রিপোর্ট দেইনি। যদি কেউ গণস্বাস্থ্যের কিট দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে টেস্ট করে রিপোর্ট দিয়ে থাকে তাহলে সে দায় তার। হাসপাতালের নয়।’
ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘কিট দিয়ে টেস্ট করার কথা আসামিরা স্বীকার করেছেন। তাদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমেই কিট উদ্ধার হয়েছে।’
তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি অন্য ল্যাব থেকে টেস্ট করিয়ে নিজেদের প্যাডে রিপোর্ট দেওয়ার কথা দাবি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দাবি আইনসিদ্ধ না। তারা দাবি করেছে, গুলশান থেকে গিয়ে টঙ্গীর ২৭ নম্বরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সাহাবউদ্দিন হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষার কোনও অনুমোদন ছিল না।’
প্রসঙ্গত, ১৯ জুলাই বিকালে গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে অননুমোদিত কিট, করোনা টেস্টের জাল রিপোর্ট ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর গ্রেফতার করা হয় হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবুল হাসনাত ও একজন কর্মচারীকে। এ ঘটনায় সোমবার গুলশান থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে।