মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস: স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেসের কর্মীদের সন্দেহ



প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের তিন জন
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেসে কর্মরত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে অর্ধযুগ ধরে জড়িত একটি চক্রকে গ্রেফতারের পর সিআইডি এ সন্দেহ প্রকাশ করলো। এ কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই তদন্ত সংস্থার সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস এসব তথ্য জানান। এ সময়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার ক্রাইম সেন্টারের ডিআইজি মো. শাহ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে গ্রেফতারের পর সিআইডি এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সুমন কুমার দাস বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিক্যাল, ডেন্টাল কিংবা আমর্ডফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়াটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটা স্বপ্ন। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ব্যর্থ হয়, যখন ফাঁস করা প্রশ্নপত্র দিয়ে তুলনামূলক কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁস হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে- সুমন কুমার দাস বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে একটি প্রেস থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। ওই প্রেসে চাকরি করেন এমন সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা হয়তো এসব কাজে যুক্ত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

এই চক্রের মূলহোতা জসিম উদ্দিন ভূইয়া মুন্নুর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। যার মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূলহোতা এই জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু। তিনি ছাড়াও পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু, সামিউল জাফর সিটু সানোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময়ে এদের মূলহোতা জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করে সিআইডি।

উদ্ধার হওয়া সঞ্চয়পত্র ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের চেক বইএরআগে, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ওই মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার ছিল ৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তদন্ত করার সময়ে ২০১৮ সালে একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। ওই মামলার তদন্তের সময়ে গত ১৯ জুলাই এস এম সানোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সাইবার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সানোয়ার ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ জুলাই জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু এবং সামিউল জাফর সিটুকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে ফাঁস করতো। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় এজাহার নামীয় ১৪ জনসহ ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।

সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনকে পূর্বের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে নতুন আরও একটি মামলা হবে বলে জানান তিনি।