এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. মো. আমিনুল হাসানের সই করা প্রতিবেদনটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থাপন করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক, মাহফুজুর রহমান মিলন, এ এম জামিউল হক ফয়সাল, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান এবং ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
কমিটি গঠন ছাড়াও প্রতিবেদনটিতে বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেগুলো হলো:
১. যেসব অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোকে স্বাস্থ্য অধিদফতর বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা মহানগরের জন্য ২টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল দুটিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিদর্শন টিম পরিদর্শন করে এবং ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও প্রতিবেদন দাখিল করেনি। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, সব অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তপূর্বক অতিদ্রুত তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন। বেসরকারি পর্যায়ে ঢাকা ট্রমা হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিদর্শন পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ করা হচ্ছে।
ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের জন্য এবং জেলার জন্য যথাক্রমে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং সিভিল সার্জনদের সভাপতি করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। যাদেরকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। টেলিফোন করে জানা যায় নির্দেশনা মোতাবেক তারা তদন্ত কাজ শুরু করলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এখনও কোনও প্রতিবেদন প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কাজ শেষ করে অবিলম্বে প্রতিবেদন অধিদফতর বরাবর দাখিল করা হবে মর্মে জানানো হয়।
২. ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা যাতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ সহজেই স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানাতে পারে সেজন্য অভিযোগ গ্রহণের সুবিধার্থে পৃথক একটি ই-মেইল হলো: covid19complain@mis.dghs.gov.bd। এটি প্রচারের জনা বিভিন্ন পত্রিকায় ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
৩. অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা ও রিফিলিং এর খুচরা মূল্য নির্ধারণের জন্য সিএমএসডিকে ইতিপূর্বে পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে সিএমএসডি গত ১৯ জুন জানায় এ ব্যাপারে সিএমএসডির দায়িত্বের পরিধি বা সংশ্লিষ্টতা কতটুকু তা অনিশ্চিত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এসআর তালিকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এ ব্যাপারে অধিদফতর পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৪. ক্যান্সার, কিডনি ডায়লাইসিসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত সকল রোগীর ফলোআপ চিকিৎসার প্রয়োজনে করোনা পরীক্ষা অত্যাবশ্যক বিধায় সে সমস্ত রোগীদের করোনা পরীক্ষা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ এবং বাংলাদেশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ও নার্স অ্যাসোসিয়েশন বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগগুলো বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। যা সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় প্রদানের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এর আগে কয়েকটি রিটের শুনানি নিয়ে আদালত অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ ও অবহেলা কিংবা রোগী ফেরতের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে নির্দেশের ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন দাখিল করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।