ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত নোটিশে দেখা গেছে, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এপ্রিল থেকে জুন মাসের বেতন ও অন্যান্য ফি ১৩ আগস্টের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে একাদশের শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, জুলাই মাসের বেতন ও অন্যান্য ফি একই সময়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিভাবকরা জানান, প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির টিউশন ফি এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। একজন শিক্ষার্থীর জন্য তিন মাসে টিউশন ফি দিতে হবে মোট ৩ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া অদৃশ্য ফিসহ শিক্ষার্থীপ্রতি ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বেশিরভাগ অভিভাবকের পক্ষে একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব নয়। করোনা দুর্যোগের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় একবারে চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করতে নিষেধ করলেও অধ্যক্ষ তা না মেনে একসঙ্গে নেওয়ার নোটিশ করেছেন। যারা বেতন ও ফি দিতে পারবেন না, তারা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতির মুখে আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলন করতে।
এদিকে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও এক মাসের বেতনসহ নেওয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৪০০ টাকা। এরমধ্যে রয়েছে টিউশন ফি ২ হাজার ১০০ টাকা, সেশন চার্জ ৩ হাজার টাকা, উন্নয়ন চার্জ ১ হাজার টাকা, পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা, খেলাধুলাসহ বছরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাবদ ২০০ টাকা, ম্যাগাজিন বাবদ ১০০ টাকা, মিলাদ ফি ১০০ টাকা, ফেস্টিভ্যাল ও কালচারাল ফি ৩০০ টাকা এবং বিবিধ ১০০ টাকা।
মানববন্ধন ও সমাবেশে অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন, অভিভাবক শাহিনুল আলম, সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, শেখ জিয়াউর রহমান, সায়ার জাহান চৌধুরী, শাকিল নজরুল ইসলাম কাজল, বাবুল আহাম্মদ, জেসমিন আক্তারসহ অন্যান্য অভিভাবক।
অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দুই মাসের টিউশন ফি বাবদ নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৩০ টাকা। যদিও দুই মাসের টিউশন ফি ২ হাজার ৮০০ টাকা। অদৃশ্য ফি হিসেবে বাড়তি নেওয়া হয়েছে ৯৩০ টাকা। মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে বলা হয়েছে— ফেব্রুয়ারি ও মার্চের টিউশন ফি’র কথা। অথচ টাকার কথা বলা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩০ টাকা। এভাবে এখন আবারও তিন মাসের (এপ্রিল থেকে জুন) টিউশন ফি একসঙ্গে আদায় করা হচ্ছে। আর এ কারণেই আমরা আন্দোলন শুরু করছি।’
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগে দুই মাসের নিয়েছি। এবার চেয়েছিলাম তিন মাসের। অভিভাবকরা টিউশন ফি মওকুফ চাচ্ছেন। আমরা এখন এক মাসের টিউশন ফি নেবো। যারা আগে টিউশন ফি এর বেশি দিয়েছেন এবং যারা দেননি আমরা তাদেরটা সমন্বয় করবো। এক মাসের বেশি এখন নেবো না।’